রাজশাহীতে রিফাত বেগের ট্রিপল সেঞ্চুরির খবরটা যখন পাওয়া গেল বেনোনিতে, তখন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল সবে মাঠে গড়িয়েছে। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে যুবপর্যায়ে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি বিকেএসপির রিফাতের, শেখ কামাল অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় যুব ক্রিকেট প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে অপরাজিত ৩২০ রানের ইনিংস খেলেছেন এই ব্যাটসম্যান। দিনের খেলা শেষে রিফাত জানালেন, তার লক্ষ্য ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলা।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বাংলাদেশে ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছে বেশ কয়েকটি। নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাসসহ বেশ কয়েকজনই বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ডাবল সেঞ্চুরি করলেও ট্রিপল সেঞ্চুরি প্রথম করেছেন বিকেএসপির রিফাত। বামহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ইনিংসটি অপরাজিত ৩২০ রানের। খেলেছেন ৪৮৩ বল, মেরেছেন ২৯টি চার আর ৪ ছক্কা। বিকেএসপির ইনিংসের আদ্যান্ত ব্যাট করে অপরাজিত থাকা রিফাত দেখেছেন সতীর্থদের একে একে বিদায় নিতে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে হোসেইন আহমেদ যখন আউট হলেন, তখন বিকেএসপির রান ৫৪৯। ঢাকার মেট্রোর প্রথম ইনিংসে রান ছিল ১৪৩, দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ঢাকা মেট্রোর সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৪৫ রান। বিকেএসপি এগিয়ে আছে ২৬১ রানে।
বড় কোনো অঘটন না ঘটলে ইনিংস ব্যবধানেই হয়তো সেমিফাইনাল জিতে ফাইনালে খেলবে বিকেএসপি। শিরোপা জয়ের ম্যাচে আলাদা করে নিঃসন্দেহে চোখ থাকবে রিফাতের দিকেও। আর রিফাতের চোখ আগামী যুব বিশ্বকাপে, ‘প্রথমে তো রেকর্ড করার ইচ্ছা ছিল না। আস্তে আস্তে দেখি যে রেকর্ডের কাছে চলে যাচ্ছি। সবাই বলছিল যে আজকে আমার ব্যাটে-বলে হচ্ছে, আমি যেন খেলে যাই। হয়ে গেছে।’ রিফাতের কাছেই জানা গেল, এর আগে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ১৪১ রানের। ইচ্ছা ছিল ডাবল সেঞ্চুরির, সেটাই হয়ে গেছে ট্রিপল, ‘ইচ্ছা ছিল ডাবল হান্ড্রেড মারার, তার চেয়ে বেশিই দিয়ে দিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা।’ ট্রিপল সেঞ্চুরির অনুভূতিটা বুঝিয়ে বলতে পারছেন না রিফাত, ‘ভালো লাগছে, বুঝিয়ে বলতে পারব না কেমন লাগছে। সতীর্থরা সাপোর্ট দিয়েছে, স্যাররা সাপোর্ট দিয়েছেন। বন্ধুরা ব্যাটিংয়ের সময় অনেক টিপস দিয়েছে, বাইরে থেকে সাপোর্ট করেছে।’
রিফাতের চোখ এখন যুব বিশ^কাপের স্বপ্ন, ‘আমার মূল লক্ষ্য ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা। ভালো কিছু একটা করেছি, এখন ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপটা খেলাই প্রধান লক্ষ্য।’ রিফাতের আইডল বিরাট কোহলি, ২০০৮ সালের যুব বিশ্বকাপ দিয়েই যে মানুষটা চিনিয়েছিলেন নিজেকে। রিফাত কি পারবেন নিজের আইডল কোহলির দেখানো পথ ধরে হাঁটতে?
