পাইপলাইনের ঋণ দ্রুত ছাড়িয়ে আনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:২৪ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়ন সহযোগীরা যে ঋণ দিচ্ছে তা সঠিক সময়ে নিতে হবে বা ব্যবহার করতে হবে। দীর্ঘদিন যাতে পাইপলাইনে পড়ে না থাকে। যেসব প্রকল্প থেকে দ্রুত রিটার্ন আসবে সেগুলো গ্রহণ করার পাশাপাশি চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। সভাশেষে পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব সত্যজিত কর্মকার প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নানা নির্দেশনা তুলে ধরেন। এদিন ৩ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকার ৯টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে বলে জানান তিনি। একনেকে ১০টি প্রকল্প উত্থাপিত হলেও চট্টগ্রাম ওয়াসার ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাষন ব্যবস্থা স্থাপন (প্রথম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী অনুমোদন হয়নি।

সত্যজিত কর্মকার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে বলেন, প্রকল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যে প্রকল্পে তাড়াতাড়ি রিটার্ন মিলবে এমন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ দ্রুত শেষ করতে বলেছেন তিনি। কাজে আসবে না এমন প্রকল্প না নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ বিবেচনা করে প্রকল্প বাছাই ও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কোনো জমি পতিত যেন না থাকে। এডিবিসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকল্পে অর্থায়ন করতে চায় এটা সঠিকভাবে দ্রুত ব্যবহার করতে হবে।

সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, এসব বিষয়ে তার কার্যালয় থেকেও স্মরণ করিয়ে দেওয়া দরকার। প্রতিটি মন্ত্রণালয় যেন এ বিষয়ে একটু নজর দেয়। প্রতিটি মন্ত্রণালয় যেসব প্রকল্প অল্প খরচ করলেই সম্পূর্ণ হয়ে যাবে, সেগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রকল্প সম্পন্ন করে ফেললে আমরা নতুন প্রকল্প নিতে পারব। কিছু কিছু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সেগুলোও দ্রুত শেষ করা উচিত। দ্রুত শেষ না করলে খরচও বাড়ে, কালক্ষেপণও হয়। সেটা যেন না হয়।

প্রকল্প নেওয়ার সময় গুরুত্ব বিবেচনা করে বাছাই করার নির্দেশ দিয়ে টানা চারবারের সরকারপ্রধান বলেন, আর্থসামাজিক উন্নতির জন্য যে প্রকল্পগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সেগুলো আমাদের নিতে হবে। প্রকল্প বাছাই করার সময় সেটা আমাদের দেখা দরকার। আমাদের যে লক্ষ্যটা আছে, সেটা আমরা অর্জন করতে পারি। শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি, অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত উন্নয়নটা আমাদের দরকার। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের পরিকল্পনা নিতে হবে।

একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ‘দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্প, এলজিইডির ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্ট ও ঢাকা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন।

এ ছাড়া রয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ইন্টিগ্রেটিং ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপ্টেশন ইনটু সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পাথওয়েজ অব বাংলাদেশ; স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হসপিটাল স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত); পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের পিডিবিএফের কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়।

বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এলাকার জন্য স্মার্ট প্রি- পেমেন্ট মিটারিং (দ্বিতীয় পর্যায়); দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রস্তাবিত দুদকের খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ; পরিকল্পনা বিভাগের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (ইউআরপি); প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট (পিসিএমইউ) চতুর্থ সংশোধিত প্রকল্প।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের চলমান সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (সেসিপ)

(তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে একনেক সভায়। এর বাইরে সভায় অবগতির জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রস্তাবিত ২০টি প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত