গাজীপুরের শ্রীপুরে চাঁদা দাবি ও অপহরণের অভিযোগে হওয়া মামলায় ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে চা পানের জন্য নিমন্ত্রণ জানিয়ে থানায় ডেকে তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
তার গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক মহাসড়কে নেমে আসে। তারা টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় মহাসড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মধ্যরাত পর্যন্ত যানজট লেগে ছিল। পরে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা শ্রীপুর থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।
গ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যানের নাম জাহাঙ্গীর আলম খোকন (৫০)। তিনি মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। পুলিশ বলছে, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে হওয়া মামলায় গ্রেপ্তারের পর গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এরপর শুনানি শেষে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের জামিন মঞ্জুর করে আদালত।
চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া মেডিকেল মোড় এলাকায় ফরচুন কেবলস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি নির্মাণাধীন কারখানার সীমানাপ্রাচীর তৈরির সময় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও তার লোকজন বাধা দেয়। পরে কাজ বন্ধ না করায় ওই কারখানার দায়িত্বশীলদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করেন ওই কারখানা কর্র্তৃপক্ষের কাছে। চাঁদার টাকা না দেওয়া ও নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখায় কারখানার ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। পরে ওই মামলায় রাতেই জাহাঙ্গীর আলমকে থানায় ডেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
কারখানাটির ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘কারখানার বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের সময় খোকন চেয়ারম্যান ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত মঙ্গলবার সকালে চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে কারখানায় উপস্থিত হন। এ সময় আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আমাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে দুই পা ধরে টেনেহিঁচড়ে জাহাঙ্গীর আলম খোকনের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে দরজা বন্ধ করে আমাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে।’
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শাহ জামান বলেন, মামলা হওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খোকনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।
তবে শ্রীপুর উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সম্পাদক মেহেদী হাসান শওকত বলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগে করা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ওসি বিশেষ সুবিধা পেয়ে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খোকনকে গ্রেপ্তার করে। থানায় চায়ের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি কী কারণে করা হয়েছে তা সবাই বুঝেছে।’
