মিত্রদের দূরত্বে শক্তিশালী শত্রু

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২৭ এএম

আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের দ্বিতীয় বছর পূর্ণ হবে। তার মাত্র এক সপ্তাহ আগে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় আবদিভকা শহর থেকে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইউক্রেন। তার মানে গত বছরের মে মাসে বাখমুত দখল করার পর এবার আবদিভকার নিয়ন্ত্রণও পেল রাশিয়া। গতকাল শনিবার সকালে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল ওলেকসান্দার তারনাভস্কি শহরটি থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা মিত্রদের সহায়তার হাত কিছুটা সংকুচিত হয়ে আসায় ক্লান্ত ইউক্রেনীয় সেনারা এখন নিজেদের জীবন বাঁচানোকেই প্রধান্য দিচ্ছেন। যার অর্থ হলো যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী বিজয় হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, গত সপ্তাহে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হওয়া জেনারেল ওলেকসান্দার তারনাভস্কি শনিবার ভোররাতে জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী শহরটি ছেড়ে পিছু হটে এসে আরও সুরক্ষিত এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, ওই শহরটি থেকে আমাদের ইউনিটগুলোকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি। ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়ে যাওয়া এড়ানো ও আমাদের সেনাদের জীবন ও স্বাস্থ্য বাঁচিয়ে রেখে আরও অনুকূল লাইন থেকে প্রতিরোধ করার জন্য সরেছি আমরা। আমরা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ও আমাদের অবস্থান বজায় রাখতে পদক্ষেপ নিচ্ছি।  ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর আগে আবদিভকায় প্রায় ৩৪ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। গত সপ্তাহেই বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আবদিভকার নিয়ন্ত্রণ রুশ বাহিনী নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কারবি বলেন, আবদিভকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তার ভাষ্য, ইউক্রেন গোলাবারুদের ঘাটতির কারণেই শহরটির নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। গতকাল শনিবার সেই ঘোষণাই দিলেন ইউক্রেন জেনারেল ওলেকসান্দার তারনাভস্কি।

রয়টার্স বলছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পপ্রধান দনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় রাশিয়া। এ লক্ষ্যে যে দুটি প্রদেশ নিয়ে অঞ্চলটি গঠিত সেগুলোর দখল সুরক্ষিত করতে চায় তারা। আবদিভকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে ওই লক্ষ্যে একটি বড় অগ্রগতি হলো। এ ছাড়া আগামী মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। যুদ্ধের ময়দানে এ জয় পুতিনকে ফের নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুবিধা এনে দিতে পারে বলেও জানিয়েছে রয়টার্স। 

তবে জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনে থাকা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ পরাজয়কে তার দেশের জরুরি সামরিক সহায়তা দরকারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে পারেন বলেও মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত