বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে দুই পরাশক্তি আবাহনী ও মোহামেডান নিজ নিজ ম্যাচে ড্র করেছে। আবাহনীকে থামিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রামের আকাশি-হলুদরা। মোহামেডানকে রুখে দিয়েছে শেখ জামাল। তবে দিনের অন্য খেলায় ৬ ম্যাচ পর সেলেমানি ল্যান্ড্রির হ্যাটট্রিকে জয়ের স্বাদ পেয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র।
প্রিমিয়ার লিগে ৬ ম্যাচ পর জয়ের মুখ দেখেছে শেখ রাসেল। কিংস অ্যারেনায় ৪-১ গোলে তারা হারিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে। শেখ রাসেলের হয়ে দলের প্রথম গোলটি করেন ফরোয়ার্ড সুমন রেজা। এর পর বুরুন্ডির ফরোয়ার্ড সেলেমানি ল্যান্ড্রির হ্যাটট্রিকে ব্যবধান এতো বড় করে নেয় শেখ রাসেল। জয় দিয়ে আসর শুরু করা ধানম-ির ক্লাবটি পরের ৬ রাউন্ডে আর কোনো জয়ের স্বাদ পায়নি। চার গোল হজম করার পর ব্রাদার্সের হয়ে সান্ত¡নাসূচক গোলটি করেন মোহাম্মদ হোসেন রাহুল।
শনিবার গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়ামে আবাহনীর দাপট ছিল শুরু থেকেই। প্রথমার্ধেই দুই গোলে এগিয়ে যায় তারা। তবে ফিরে আসা ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনী দুই গোল শোধ করলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
খেলার অষ্টম মিনিটে আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানির দল এগিয়ে যায়। চট্টগ্রাম আবাহনীর এক ডিফেন্ডারের হাতে বল লাগলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি দেন। পেনাল্টি থেকে সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড গ্রানাডার স্ট্রাইকার কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্ট গোলকিপারের বিপরীত দিক দিয়ে সহজেই লক্ষ্যভেদ করে দলকে এগিয়ে নেন। ৩৬ মিনিটে আবাহনী ব্যবধান দ্বিগুণ করে। ব্রাজিলিয়ান বুনিনহোর অ্যাসিস্টে কর্নেলিয়াস বল জড়ান জালে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাতে থাকে বন্দরনগরীর দলটি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এক গোল শোধ দেয় চট্টগ্রাম আবাহনী। পেনাল্টি থেকে নাইজেরিয়ান ইফেগু ওজুকু জোরালো শটে গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেলকে পরাস্ত করেন। সোহেল বলের লাইনে ঝাঁপালেও ঠেকাতে পারেননি। বিরতির পরও সে চেষ্টা অব্যাহত থাকে চট্টগ্রামের দলটির। সাফল্য ধরা দেয় ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে। মান্নাফ রাব্বীর অ্যাসিস্টে ওজুকু জাল কাঁপিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান।
দিনের অন্য ম্যাচে ময়মনসিংহ স্টেডিয়ামে মোহামেডান ও শেখ জামালের মধ্যকার ম্যাচেও ঘটেছে একই ফল। পুরো ম্যাচে মোহামেডান দাপট দেখালেও গোলের লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। গোলশূন্য ড্রতেই নিষ্পত্তি হয়েছে ম্যাচের।
দুই ঐতিহ্যবাহী দলের ড্রয়ে লাভ হয়েছে বসুন্ধরা কিংসের। ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে অন্যদের থেকে ঠিকই ব্যবধান বাড়িয়ে নিয়েছে অস্কার ব্রুজনের দল। আবাহনী লিমিটেড ৮ ম্যাচে চার জয় ও দুই ড্রতে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে। মোহামেডান সমান ম্যাচে চতুর্থ ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। সমান ম্যাচে কিংসের সংগ্রহ ২১ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম আবাহনী ও শেখ জামাল ১০ পয়েন্টে নিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। ২ জয় ও ৩ ড্রয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয়ে অবস্থান শেখ রাসেলের। আর আসরে একমাত্র দল হিসেবে কোনো জয় না পাওয়া ব্রাদার্স ৩ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে একদম তলানিতে।
