পরাজয়ের বৃত্ত থেকে যেন কোনোভাবেই বের হতে পারল না তাসকিন, মোসাদ্দেকের দুর্দান্ত ঢাকা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জয়ের পর টানা ১১ ম্যাচে তারা দেখেছে শুধুই হার। লজ্জার রেকর্ড সঙ্গী করেই বিপিএল অধ্যায়ের ইতি টানল এবারের নবাগত ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। বিপিএলের এবারের আসরে তাদের শেষ ম্যাচে টস হেরে আগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে বোলিং করতে নামে তারা। ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে চট্টগ্রাম নিজেদের ইনিংসে তোলে ৬ উইকেটে ১৫৯ রানের সাদামাটা পুঁজি। জবাবে ঢাকা থামে ৫ উইকেটে ১৪৯ রানে। হারের ব্যবধান ১০ রানের।
চট্টগ্রামের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান তামিমের একক বীরত্বে এই পুঁজি পায় চট্টগ্রাম। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটির দেখা পান তানজিদ ৩৬ বলে। আউট হওয়ার আগে করেন চট্টগ্রামের ইনিংস সেরা ৫১ বলে ৭০ রান। ইনিংসে চারের চেয়ে ছক্কা মারাতেই বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলেন তানজিদ। ১ চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা হাঁকান তানজিদ।
চট্টগ্রামের ইনিংসের প্রথম বলেই এসেছে আঘাত। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বলে সিøপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সৈকত আলী। হতাশ করেন অস্ট্রেলিয়ার হার্ডহিটার জশ ব্রাউন। উড়িয়ে খেলতে গিয়ে তাসকিনের বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন তিনি। ২৪ রানে দুই উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে টম ব্রুসের সঙ্গে ৬৮ বলে ৯৫ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। টম ব্রুস ৩৫ বলে ৩ চার আর ২ ছয়ে ৪৮ রান করেন। এর পর তৃতীয় সর্বোচ্চ ১২ রান আসে অতিরিক্ত থেকে। আগের দিন ঝড় তোলা রোমারিও শেফার্ড এদিন কিছু করতে পারেননি। ৮ বলে ৩ রান করে তিনিও ফেরেন বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে। ৪ বলে ৯ রান করে ফিরে যান চট্টগ্রাম অধিনায়ক শুভাগত হোম।
ঢাকার বোলারদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ যতটুকু আলো ছড়ান। ৪ ওভারের স্পেলে ১৭ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট শিকার করেন শরিফুল। ২ উইকেট পান তাসকিনও। তবে তিনি রান খরচ করেন ৩৮। এ ছাড়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও শন উইলিয়ামস ১টি করে উইকেট পান।
২২ উইকেট নিয়ে এবারের আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এখন পর্যন্ত শরিফুল ইসলাম। ৭.৮১ ইকোনমি রেট বজায় রেখে ১৫.৮৬ গড়ে উইকেটগুলো শিকার করেন শরিফুল। তালিকার দুইয়ে থাকা রংপুরের শেখ মেহেদি হাসানের শিকার সংখ্যা ১৫টি। ১৩ উইকেট নিয়ে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে যৌথভাবে তিনে আছেন তাসকিন আহমেদ।
১৬০ রানের লক্ষ্যে তৃতীয় ওভারের শেষ দুই বলে অ্যাডাম রসিংটন ১ রানে এবং সাব্বির হোসেন গোল্ডেন ডাকের শিকার হয়ে ফেরেন। ৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ৫১ রানের ধীরগতির জুটি গড়েন নাঈম শেখ ও অ্যালেক্স রস। ৩৫ বলে ৩ চারে ২৯ রান করেন তিনি। রস অবশ্য ফিফটি তুলে নেন ৩৮ বলে। তিনি আউট হন ৪৪ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে। শেষ দিকে অধিনায়ক মোসাদ্দেকের ১৮ বলে ৩০ রানের ইনিংস আগের ধীর খেলার মাশুল চুকাতে পারেনি। টানা ১১ হারে সাঙ্গ হয় ঢাকার বিপিএল অধ্যায়।
