সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শাখা ছাত্রলীগ সভাপতিকে ‘কুলাঙ্গার’ বলে মন্তব্য করলেন সহ-সভাপতি

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:১২ পিএম

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)  শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকে 'কুলাঙ্গার' বলে ফেসবুকে কমেন্ট করেছেন সহ-সভাপতি মো. আল মামুন শিমন। যবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির (যবিপ্রবিসাস) পেজে  'ছাত্রলীগ সভাপতিকে সালাম না দেওয়ায় শিক্ষার্থীকে মারধর' শিরোনামে বিভিন্ন নিউজ শেয়ার করলে কমেন্ট বক্সে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

 গত ১৬ ফেব্রুয়ারি যবিপ্রবি শ.ম.র হলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকে সালাম না দেওয়ায় ও লুঙ্গি পড়ে হাটায় শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় যবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে  তিনটি শেয়ারকৃত নিউজে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. আল মামুন শিমন লিখেন, 'এ সব কিছু কুলাঙ্গার সভাপতির জন্য আজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে কলুষিত করছে, এদের কে বহিস্কার করা উচিত।'

কমেন্টের বিষয়ে যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. আল মামুন শিমনের কাছে জানতে চাইলে বলেন, শুধু আমার ইউনিভার্সিটি বলে কথা নয়, যেই অন্যায় করবে তার বিরুদ্ধেই কথা বলতে হবে। সোহেল রানা কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পেয়েছে মানে এই নয় যে, কেউ সালাম না দিলে তাকে মারবে। সে যদি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে থেকে এসব কাজ করে তার মাধ্যমে আমাদের দেশনেত্রী শেখ হাসিনার নাম খারাপ হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই তার বিরুদ্ধে আমি কথা বলতেই পারি। এমন অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যাবে না ছাত্রলীগের কোথাও এমন কিছু লেখা নেই। সে শুধু এখন নয় এর আগেও এমন করেছে। এমনকি তার উপস্থিতে তার অনুসারীরা আমাকেও মেরেছে। বহিষ্কৃত রকি নামের ছেলে সে এখনো হলে কীভাবে থাকে আর তাকে নিয়ে কীভাবেই বা সে ঘোরে ? যারাই করুক না কেন আমি আমার নৈতিকতার জায়গা থেকে তার বিরুদ্ধে কথা বলব। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হিসেবে এটা আমার করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি,যেহেতু বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ তাই কেন্দ্রীয় সভাপতি  সাদ্দাম হোসেনের কাছে অনুরোধ করব যেন দ্রুত নতুন কমিটি দিয়ে জুনিয়র যারা রাজনীতি করেন তাদের জায়গা করে দিতে। এছাড়াও তিনি বলেন, বর্তমান কমিটির উচিত স্বসম্মানে নিজেদের পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে নতুন সম্মেলনের আহ্বান করতে।

এ ধরনের মন্তব্যে যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানার বলেন, ফেসবুকে কে কি লিখলো সেটা আমি আমলে নেই না, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশই জানে আমাকে প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হতে হচ্ছে। আমাদের সংগঠন স্বাধীন সংগঠন, যদিও এইটা সংগঠন পরিপন্থী কাজ, তারপরও সবার বাক স্বাধীনতা রয়েছে। তাছাড়াও সুমন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রই না, সে পাস করে চলে গেছে। তার এহেন মন্তব্যের জন্য সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

উল্লেখ্য, যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকে সালাম না দেওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে সভাপতি সোহেল রানার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ও সোহেল রানার অনুসারী রকি সহ কয়েকজন মিলে এফএমবি বিভাগের মাঞ্জুরুল হাসান নামের এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে এগারোটার দিকে যবিপ্রবির শহীদ মসীয়ূর রহমান (শ.ম.র.) হলের ৩০৮ নম্বর কক্ষে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী যশোর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি, শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ও যবিপ্রবি প্রক্টর বরাবর পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত