সূচনার মঞ্চে সেরা প্রমাণের লড়াই

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:০১ এএম

দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে আজ থেকে মাঠে গড়াচ্ছে ঘরোয়া হকি। ক্লাব কাপ টুর্নামেন্ট দিয়ে শুরু হবে মৌসুম। সাধারণত আমন্ত্রণমূলক এই টুর্নামেন্টে খেলে থাকে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলো। লিগের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার দারুণ সুযোগ মেলে এ ধরনের টুর্নামেন্ট খেলে। তাই পারতপক্ষে এমন টুর্নামেন্ট কোনো দল মিস করতে চায় না। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। প্রিমিয়ার লিগের ১০ দলের মধ্যে ছয় দল নিয়ে হবে এই টুর্নামেন্ট। আর্থিক অসংগতির কারণে চারটি ক্লাব এই টুর্নামেন্টে খেলতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। তবে কাগজে-কলমে সেরা চার দল খেলছে ক্লাব কাপে।

এই টুর্নামেন্টের পরপরই শুরু হওয়ার কথা ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগ। ফলে ক্লাব কাপকে প্রস্তুতি মঞ্চ হিসেবে নিয়েছে বড় দলগুলো। ছয় দল দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলবে এই টুর্নামেন্ট। এ গ্রুপে মেরিনার্স, মোহামেডান ও বাংলাদেশ পুলিশ খেলবে। বি গ্রুপে খেলবে আবাহনী, ঊষা ও আয়াক্স স্পোর্টিং ক্লাব। আজ প্রথম দিনে আবাহনী আয়াক্সের ও মেরিনার্স খেলবে পুলিশের বিপক্ষে। দুই গ্রুপের সেরা দুই দল যাবে সেমিফাইনালে। ২৯ তারিখ হবে দুটি সেমিফাইনাল। আর ২ মার্চ হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল।

দলবদলের পর দেখা যাচ্ছে চারটি দলেরই আছে ভালো সম্ভাবনা। এখানে যারা বিদেশি নিয়োগে মুন্সিয়ানা দেখাতে পারবে, তাদের সফল হওয়ার সুযোগ থাকবে বেশি। আবাহনী এবার গড়েছে তারুণ্যনির্ভর দল। এর সঙ্গে ভারত থেকে তারা ভালোমানের খেলোয়াড় আনতে চাচ্ছে। তবে ক্লাব কাপে দলটির উপদেষ্টা কোচ মাহবুব হারুন কেবল স্থানীয়দের পরখ করে দেখার সুযোগ পাবেন, ‘বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়াই আমরা ক্লাব কাপ হকি শুরু করতে যাচ্ছি। ভারতীয় খেলোয়াড় আনছি আমরা। তারা নিজ দেশের খেলা নিয়ে ব্যস্ত আছে। সেই ব্যস্ততা শেষ হলেই ঢাকায় চলে আসবেন।’ গতবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন মেরিনার্স এবারও কোচ হিসেব আস্থা রেখেছে সাবেক তারকা মামুন-উর-রশিদের ওপর। এই অভিজ্ঞ কোচ ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ক্লাব কাপে সব দলের অংশগ্রহণ না থাকায় কিছুটা হতাশ তিনি, ‘সব দল থাকলে আসর জমজমাট হতো। বেশি ম্যাচও খেলা যেত। যেটা লিগের আগে খুব জরুরি ছিল।’

দুই মৌসুম পর শীর্ষ লিগে ফিরেছে পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ঊষা। দলটির ক্রীড়া সম্পাদক সাবেক তারকা রফিকুল ইসলাম কামাল মনে করেন দলবদলের পর দলগুলোকে প্রস্তুতির জন্য একটু বেশি সময় দেওয়া উচিত ছিল, ‘দলবদল শেষে ক্লাবগুলোকে অন্তত একমাস প্রস্তুতির সময় দেওয়া উচিত ছিল। আমরা সেটা পাইনি। এমনিতেই দেরিতে অনুশীলন শুরু করেছি। তারপরও দুই বেলায় ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। স্থানীয় খেলোয়াড় সংগ্রহ প্রত্যাশিত ছিল না। বিদেশি দিয়ে শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করছি।’

দল কমে গেলেও সেরারা থাকায় ক্লাব হতে যাচ্ছে সেরা প্রমাণের মঞ্চ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত