নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন হত্যা মামলার এক আসামি জেলা কারাগারে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তুষার নামের ২৮ বছর বয়সী ওই আসামি মারা যান বলে জানিয়েছেন জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন।
২০২০ সালে সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যাকান্ডের পর স্থানীয়রা ধরে তাকে পুলিশে দেয়। ওই বছরের অক্টোবর থেকে কারাগারে ছিলেন তুষার। ওই সময় নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবীরের আদালতে বন্দর সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন খুনের ঘটনায় দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের জিওধারা এলাকার প্রয়াত জামান মিয়ার ছেলে তুষার।
জেলা সুপার মোকাম্মেল হোসেন জানান, তুষার সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যা মামলার দোষ স্বীকার করা আসামি। তার মামলার কার্যক্রম খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণও সম্পন্ন হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি কারাগারে নামাজ পড়া শুরু করেন। এমনকি তাহাজ্জুদ নামাজও বাদ দিতেন না। এর মধ্যে সবার কাছে তিনি দোয়া চাইতেন।
জেল সুপার জানান, মঙ্গলবার বিকেলে মাঠে খেলাধুলাও দেখেছেন তিনি। কারাকক্ষে ঢোকার ১০ মিনিট আগে তিনি খেলার মাঠ থেকে উঠে যান। প্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি ছয়তলা নতুন ভবনে গিয়ে চাদর ছিঁড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে থাকতে পারেন। পরে তার গোঙানির শব্দ শুনে কয়েদি ও প্রহরীরা তাকে উদ্ধার করেন। পরে শহরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল) নিয়ে গেলে ৩০ মিনিট পর মারা যান তিনি। জেল সুপারের ভাষ্য, নিজের সাজা কী হবে সেই ভাবনা ও হতাশা থেকে হয়তো তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন।
২০১৮ সালে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় শামীম নামে এক যুবকের সঙ্গে তুষারের ঝগড়া হয়। ওই সময় তুষার লাঠি দিয়ে শামীমের মাথায় আঘাত করলে গুরুতর আহত হন শামীম। এ ঘটনায় তুষারের বিরুদ্ধে মামলা করেন শামীম। আর সেই মামলা করতে সাংবাদিক ইলিয়াস উসকানি দিয়েছিলেন বলে ধারণা তুষারের। এ ছাড়াও এলাকায় অবৈধ গ্যাস লাইনের সংযোগ দেওয়ার টাকা নিয়ে তুষার, ইলিয়াস, মাসুদসহ আরও কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এসবের জের ধরেই সাংবাদিক ইলিয়াসকে হত্যা করা হয়। সেদিন রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তুষারকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ধারালো ছুরিও উদ্ধার করা হয়। পরে জিওধারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিন্নাত আলী ও মিসির আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত ইলিয়াসের স্ত্রী আটজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন। মামলায় তুষার ছাড়াও মিন্নাত আলী (৬০), মিসির আলী (৫৩), হাসনাত আহমেদ তুর্জয় (২৪), মাসুদ (৩৬), সাগর (২৬), পাভেল (২৫) ও হযরত আলীকে (৫০) আসামি করা হয়।
