ওষুধ ও হার্টের রিংয়ের দাম কমানোর নির্দেশ

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:০০ এএম

দেশে ওষুধ ও হার্টের রিংয়ের দাম কমাতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেছেন, ওষুধের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। দাম কমাতেই হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওষুধের দাম নিয়ে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে বেরিয়ে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই নির্দেশনার কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওষুধের মূল্য নিয়ে পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি হচ্ছে। হঠাৎ করে এমনি এমনি তো ওষুধের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে না। কেন বাড়ছে, কতটুকু বাড়ছে, তার যৌক্তিকতা কতটা সে ব্যাপারে আমাদের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’ এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার সঙ্গে উপস্থিত থাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ওষুধের মূল্য কমানোর ব্যাপারে করণীয় ঠিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ওষুধ কোম্পানি মালিকপক্ষের সঙ্গে আলাপ করার জন্য নির্দেশনা দেন।

পেট্রোলে দগ্ধ নারী চিকিৎসকের খোঁজ নিলেন : গতকাল বিকেলে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন সাবেক স্বামীর পেট্রোলের আগুনকা-ে মারাত্মক দগ্ধ নরসিংদীর ডা. লতা আক্তারকে দেখতে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি এই নারী চিকিৎসকের চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থার খোঁজ নেন।

এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা চিকিৎসাধীন ডা. লতা আক্তারের শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয় বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানান। চিকিৎসকরা জানান, ডা. লতা আক্তারের শরীরের ৯০ ভাগ পুড়ে গেছে।

এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক, হৃদয়বিদারক ও দুঃখজনক। এমন ঘটনায় আসলে কেউই লাভবান হয় না, শুধু নিজেদেরই ক্ষতি হয়। পেট্রোলে পুড়ে যাওয়া আমাদের এই চিকিৎসক রোগীর প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে সুস্থ করা বেশ কঠিন হয়ে গেছে। তবে, রোগীকে সুস্থ করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সব ধরনের চেষ্টাই আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা আমাদের সাধ্যের শেষ বিন্দু দিয়ে চাই এই রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মধ্যে ফিরে আসুক।’

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন নরসিংদীর ডা. লতা আক্তার। তার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার সাবেক স্বামী খলিলুর রহমান রোগীর গায়ে আগুন দিয়েছেন বলে রোগী জানিয়েছেন। রোগীর ডায়িং ডিক্লারেশন নেওয়া হয়েছে। রোগী বর্তমানে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে আইসিইউ ১৫ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন। শাহাবুদ্দিন মেডিকেল থেকে পাস করা এই নারী চিকিৎসকের গায়ে আগুন দেওয়ার পর তার স্বামী নিজের গায়েও আগুন দেয় এবং তিনি গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

চিকিৎসাধীন রোগীকে দেখার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. রায়হানা আউয়ালসহ অন্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

শিশুমৃত্যুর দায় এড়াতে পারি না : অল্প সময়ের ব্যবধানে রাজধানীতে খতনা করাতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে এত অসংগতি, এর কোনোটাই মন্ত্রী হিসেবে এড়ানো সম্ভব না। দায় মাথায় নিয়েই কাজ করা হবে।

অভিযান চলবে : এ সময় দেশের অবৈধ স্বাস্থ্যসেবাব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। যেকোনো দিন মন্ত্রী হিসেবে অভিযানে যাব। অবৈধ কোনো ক্লিনিক চলবে না। ভুল চিকিৎসা থেকে চিকিৎসা না হওয়া ভালো। যেখানে সুযোগ-সুবিধা আছে, সেখানে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর খতনার জন্য রাজধানীর বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু আয়ানকে নিয়ে যায় তার অভিভাবক। খতনা করানোর সময় শিশুটিকে জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ায় পর তার জ্ঞান ফেরেনি। পরে তাকে গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সে অবস্থাতেই গত ৭ জানুয়ারি শিশুটির মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২০ ফেব্রুয়ারি মালিবাগের জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খতনা করাতে গিয়ে প্রাণ যায় আরেক শিশু আয়হামের।

এই দুই ঘটনার পর দেশজুড়ে অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০টিরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত