রাত ৮টায় শেষবারের মতো বাসা থেকে বের হন লামিশা

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪, ০৪:৪৩ পিএম

‘বাবা আমি আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছি, তাড়াতাড়ি আমাকে উদ্ধার কর’- এই ছিল বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী লামিশা ইসলামের শেষ কথা। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে লামিশার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। মা হারা লামিশাকে উদ্ধারে তার বাবা পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাসিরুল ইসলাম শামীম শত চেষ্টা করেও মেয়েকে বাঁচাতে পারেননি।

শুক্রবার ভোরে লামিশার নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা। এসময় পরিবারের অন্য সদস্যরাও শোকে নির্বাক হয়ে যান। শোকে পাথর লামিশার বাবা নাসিরুল ইসলাম শামীম কোনো কথাই বলতে পারছেন না। লামিশার মায়ের আশা ছিল মেয়ে বড় হয়ে দেশের জন্য কিছু করবে। মায়ের ইচ্ছাতেই তিনি বুয়েটে ভর্তি হন। কিন্তু মৃত মায়ের সে আশা আর পূরণ হলো না।

ঢাকার বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া বুয়েটের শিক্ষার্থী লামিশা ইসলামের বাড়ি ফরিদপুরে এখনো চলছে শোকের মাতম। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে লামিশার লাশ শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলীর বাড়িতে এসে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণ হয়। লামিশার স্বজনেরা লাশ দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এসময় লামিশার লাশ দেখতে স্থানীয় প্রতিবেশীরাও ভিড় জমান। 

লামিশা ইসলামের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বাদ জুমা শহরের চকবাজার জামে মসজিদে তার জানাজা হয়। এতে পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে তাকে ফরিদপুর আলীপুর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

লামিশার চাচা রফিকুল ইসলাম সুমন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মগবাজারের পুলিশ কোয়ার্টারের বাসা থেকে বান্ধবীকে নিয়ে খাবার খেতে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে যায় লামিশা। রাতে আগুন লাগার পর লামিশা তার বাবার মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে, সে আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছে। তাকে উদ্ধারের কথা জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করেও তাকে ফোনে পায়নি। ভবনের ভেতরে ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ হয়ে বান্ধবীসহ সে মারা যায়।

তিনি আরও বলেন, তার ভাস্তি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তাদের পরিবারের অনেক আশা ছিল তাকে নিয়ে। মা হারা লামিশা সংসারের সব বিষয়ে দেখাশোনা করত। একটি দুর্ঘটনায় পরিবারের সবকিছু শেষ হয়ে গেল।

নিহত লামিশা ইসলাম বুয়েটের ম্যাকানিক্যাল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তারা বাবা নাসিরুল ইসলাম শামীম পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি পদে কর্মরত রয়েছেন। নাসিরুল ইসলাম শামীমের দুই কন্যার মধ্যে লামিশা ছিলেন পরিবারের বড় সন্তান। লামিয়ার মা ২০১৫ সালে মারা যান। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত