পাকিস্তানের ২৪তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ- নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের নেতা শাহবাজ শরিফ। গতকাল রবিবার ভোটাভুটিতে তিনি ২০১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন লাভ করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের মহাসচিব ওমর আইয়ুব খান পান মাত্র ৯২ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন। জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর শাহবাজ অর্থনৈতিক সংকট নিরসনের প্রশ্নে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইমরান খান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পিটিআই-সমর্থিত স্বাধীন প্রার্থীরা গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করেন নব্বইটিরও বেশি আসনে। পরে তারা সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিল (এসআইসি) নামের দলে যোগদান করে আইনসভায় দলীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেন। গতকাল তারা প্রধানমন্ত্রী পদে ওমর আইয়ুব খানকে সমর্থন দেন।
শাহবাজই দেশটির একমাত্র ব্যক্তি যিনি টানা দুই বার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন। বিজয়ী ভাষণ দেওয়ার সময় এসআইসি-পিটিআই এমপিরা হইচই বাধান। গতকাল শাহবাজ নিজ দল ছাড়াও ভুট্টো পরিবারের দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি), মুত্তাহিদা ক্বওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি), পাকিস্তান মুসলিম লিগ-কায়দে আজম (পিএমএল-কিউ), বালুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি), পাকিস্তান মুসলিম লিগ-জিয়া (পিএমএল-জেড), ইস্তেখাম-ই-পাকিস্তান পার্টি (আইপিপি) এবং ন্যাশনাল পার্টির (এনপি) আইনপ্রণেতাদের সমর্থন লাভ করেন। ভোটের ফলপ্রকাশের পর পিএমএল-এন প্রধান নওয়াজ শরিফেরই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আলোচনা চলছিল। কিন্তু নানা নাটকীয়তার পর নিজ ভাই শাহবাজকে মনোনীত করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ।
বিজয়ী ভাষণে শাহবাজ নানা ইস্যুতে কথা বলেন। পিপিপির প্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার আলি ভুট্টোকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যা করার নিন্দা জানান শাহবাজ। ভুট্টোর কন্যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোকে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে হত্যার করার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বেনজিরের ভূমিকা স্মরণ করেন। সেইসঙ্গে ক্ষমতায় থাকাকালে পিটিআইয়ের ‘প্রতিহিংসাপরায়ণতা’ ও সশস্ত্র বাহিনী-বিরোধী অবস্থানের ভূমিকা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ সমালোচনা করেন তিনি।
