৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করতে চায় সরকার

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৩:২৫ এএম

ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি আগামী মাসে সই হতে পারে। জিএমআরের মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টিও প্রায় চূড়ান্ত।

ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এসব কথা বলেন নসরুল হামিদ। এ সময় তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নেপালের পাশাপাশি ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া অনেক এগিয়েছে। নবায়ণযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ও এগুচ্ছে। মেঘালয়, ত্রিপুরা বা আসাম থেকে বিদ্যুৎ আমদানি ও রপ্তানি করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ভারতের একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এইচ-এনার্জির মাধ্যমে এলএনজি/গ্যাস আমদানির প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। আমরা ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কানেকটিভিটি বাড়াতে চাই। ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ছে। নেপাল থেকে বাংলাদেশে জলবিদ্যুৎ আমদানি চলমান। ভারতও নেপাল থেকে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে।

সাক্ষাৎকালে বিদ্যুতের হাই ভোল্টেজ সঞ্চালন লাইন, নবায়ণযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ আমদানি-রপ্তানি, আর-এলএনজি, জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি দক্ষতা, ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক কানেকটিভিটি ইত্যাদি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।

একই দিন সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় নসরুল হামিদ বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, ‘চীন, বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রসারে চাইনিজ কোম্পানিগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আমরা চীনকে আমাদের পাশে আরও বড় আকারে দেখতে চাই।’

প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সহযোগিতা উত্তরোত্তর বাড়ছে। সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানোর জন্য একসঙ্গে বসা জরুরি ছিল। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ, শক্তিশালী ও উন্নত হবে। এ সময় চীনের অর্থায়নে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প, লিথিয়াম ব্যাটারি ফ্যাক্টরি স্থাপন, সেমি কন্ডাক্টর ফ্যাক্টরি স্থাপন, ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল, ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম, স্মার্ট মিটার, সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস উত্তোলন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত