চট্টগ্রামে পোলিশ নাগরিক খুন, দুই দিনেও ক্লু পায়নি পুলিশ

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৪, ১০:০৭ পিএম

চট্টগ্রাম নগরে এক পোলিশ নাগরিক কেন খুন হলেন, একটি তারকা হোটেল কক্ষে কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে দুই দিনেও এসব প্রশ্নের উত্তর পায়নি পুলিশ। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে নগরের জিইসি মোড়ে 'দ্য পেনিনসুলা চিটাগাং’ নামে একটি তারকা হোটেলের ৯১৫ নম্বর কক্ষ থেকে পোলিশ নাগরিক জিস্লা মাইকেল চেরিবার (৫৮) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত জিস্লা মাইকেল বিগ স্টার নামের ঢাকার একটি বায়িং হাউসে কোয়ালিটি কন্ট্রোলার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনায় নগরের চকবাজার থানায় মঙ্গলবার (৫ মার্চ  হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। বিগ স্টার লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার পার্থ প্রতিম ঘোষ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এজাহারে গত ২ মার্চ বিকাল ৫টা ১২ মিনিট থেকে ৪ মার্চ বেলা পৌনে ১১টার হত্যাকাণ্ড ঘটেছে  বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার বেলা ১১টার দিকে লাশ উদ্ধারের পর নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিহতের মাথা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে । এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

এদিকে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়ে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়ালী উদ্দিন আকবর আজ রাতে বলেন, 'এখনো কোনো ক্লু পাইনি। তদন্ত চলছে।'

পুলিশ জানায়, ফুটেজে ওই পোলিশ নাগরিককে সর্বশেষ ২ মার্চ দুপুর ২টার দিকে হোটেল কক্ষ থেকে বের হয়ে নিচে আসতে দেখা গেছে। কিছু সময় পর তিনি আবার হোটেলের নিজ কক্ষে ফিরে আসেন। ওই দিনই বিকেলে রুম সার্ভিস বয়কে তার রুমের দরজার সামনে আসতে দেখা যায়। সার্ভিস বয়কে খাবারের ট্রে ফেরত দিয়েছিলেন পোলিশ নাগরিক। এরপর থেকে সিসিটিভি ফুটেজে এই তাকে রুম থেকে আর বের হতে দেখা যায়নি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টস পরিদর্শনের জন্য বিমানে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন ওই পোলিশ নাগরিক। তাকে রিসিভ করেন সিইপিজেডে কেনপার্ক বাংলাদেশ অ্যাপারেলস লিমিটেডের মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার আশরাফুল হক ডালিম। তিনিই এই পোলিশ নাগরিককে থাকার জন্য হোটেল পেনিনসুলার নবম তলার ৯১৫ নম্বর কক্ষ বুকিং দেন। এরপর তখন থেকে জিস্লা মাইকেল হোটেলটিতে অবস্থান করছিলেন।

গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে আশরাফুল হক ডালিম ব্যবসায়িক কাজে কল করলে মুঠোফোনে রিসিভ করেননি জিস্লা মাইকেল চেরিবার। পরে ডালিম বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানায়। হোটেল কর্তৃপক্ষ পোলিশ নাগরিকের রুমের সামনে গিয়ে ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ লেখা কার্ড ঝুলতে দেখেন। পরে ১০টা ৪৫ মিনিটে তার দরজায় নক করে কোনো সাড়া না পাওয়ায় ১১টার দিকে চকবাজার থানা-পুলিশকে খবর দেয়। ১১টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে হোটেল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় উক্ত কক্ষের দরজা খোলেন, এ সময় পোলিশ নাগরিকের মাথার পেছনে দুটি রক্তাক্ত আঘাতসহ দরজার পাশে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, সংবাদ পেয়ে বাদী দ্রুত ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ শনাক্ত করেন। এ সময় বাদী দেখতে পান, পোলিশ নাগরিকের বিছানা, বালিশ রক্তে ভেজা এবং টয়লেট ও ফ্লোর রক্ত মাখা।

চকবাজার থানার ওসি ওয়ালী উদ্দিন আকবর বলেন, ‘হোটেল বয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি গত ২ মার্চ বিকেলে দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজ হিসেবে খাবারের ট্রে নিয়ে চলে যান। তার কাছ থেকে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।’

পুলিশ জানায়, নিহত পোলিশ নাগরিক চেরিবার এর আগে চট্টগ্রামে একাধিকবার এসেছেন। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরেও তিনি চট্টগ্রামে আসেন। সেসময়ও এই হোটেলটিতে ছিলেন। পরে ক্রিসমাসে ছুটিতে তিনি নিজ দেশ পোল্যান্ডে ফিরে যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত