যমুনার চরে মহিষের সঙ্গে ঘর-সংসার 

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৪, ০৯:১৮ পিএম

নদীর কোলঘেষে চোখে পড়বে চাষী ও রাখালদের ঝুপড়ি ঘর। যারা নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য এ ঘরগুলো বানান। ঘরের একপাশে মহিষ রাখেন, অন্যপাশে থাকেন তারা। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের একমাত্র ভরসা হারিকেন। এছাড়াও কারও ঘরে দেখা মিলে সোলার প্যানেল।
এ রকম দৃশ্যের দেখা মিলবে শাহজাদপুর উপজলোর কৈজুরী ইউনিয়নের যমুনা নদীর পাশে মোনাকষা ও ভাট দিঘুলিয়া চরে।

যেখানে সূর্যদয়ের সঙ্গে মহিষ নিয়ে বেরিয়ে পড়েন একদল রাখাল। দুর্গম চরাঞ্চলে দিনভর তারা মহিষ লালন-পালন করেন। এ চরাঞ্চলে প্রায় সাড়ে তিন’শ মহিষ লালন-পালন করেন রাখালরা। মহিষের দুধ বিক্রি করে তারা দিনেদিনে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, যমুনার বিশাল এলাকা জুড়ে শুধু মহিষের বাথান চোখে পড়বে। আর বাথানের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী। যে নদীতে রাখালরা মহিষদের গোসল করানোর পাশাপাশি নিজেরাও গোসল করেন। বলা চলে নদীনির্ভর তাদের জীবন।

এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাক ডাকা ভোরে রাখালরা মহিষের দুধ দোয়ানো, নৌকায় করে গ্রাহকদের কাছে দুধ পাঠানো এবং দুপুর র্পযন্ত মহিষগুলোকে মাঠে চড়ানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। তারপর মহিলা সদস্য না থাকায় নিজেরাই রান্না করে তা খেয়ে দিন পার করেন। রাখালদের সঙ্গে মহাজনদের নিয়োগকৃত ঘোষালরাও সেখানে থাকেন। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করইে চলছে এ মহিষ লালন পালনের কাজ।

একটি মহিষ দিনে ৭ থেকে ১১ কেজি পর্যন্ত দুধ দিয়ে থাকে। প্রতি কেজি দুধ ফ্যাট অনুযায়ী ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। আর এই দুধ বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা। ফলে বদলে যাচ্ছে মহিষ পালনকারীদেরও জীবনমান।

কৈজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খোকন বলেন, প্রতি বছরই যমুনার বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চলে সবুজ ঘাস খাওয়ানোর জন্য পাশ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত মহিষ নিয়ে আসেন খামারীরা। চরের তৃণভূমিতে তারা অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর তুলে সেখানে বসবাস করেন। চারপাশে যমুনা নদীর অসংখ্য ক্যানেল আর সবুজ ঘাস থাকার কারণে খামার পরিচালনা সহজলভ্য হচ্ছে। 

বর্ষা মৌসুমে চরগুলোতে বন্যার পানি প্রবেশের আগেই মহিষের বাথান গুটিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায় খামারীরা। আবার পরবর্তী বছরে বর্ষার পানি চলে গেলে তারা মহিষ নিয়ে ফিরে আসেন এবং এভাবে লালন-পালন করেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত