সিলেটের উইকেটে ১৬৬ রানের লক্ষ্য সহজেই করার মতো। সেই কাজটা আরও সহজ হয়ে যায় যখন দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা রান পান। সেটিই হয়েছে আজ। লিটন-সৌম্যর উদ্বোধনী জুটির পর শান্ত-হৃদয়ের আরও একটি অনবদ্য জুটি জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছে বাংলাদেশকে। ১১ বল বাকি থাকতেই ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের ফিফটির সঙ্গে লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজ বাঁচানো ৮ উইকেটের জয় এনে দিয়েছেন অধিনায়ক শান্ত। সিরিজও তাই সমতায় ১-১ ব্যবধানে।
এর আগে বোলাররাও দেখিয়েছেন দাপট। শরিফুল তো শুরুই করেন মেডেন ওভার দিয়ে। গত ম্যাচেই দুশো হজম করা বাংলাদেশ এ ম্যাচে লঙ্কানদের আটকে রাখে ১৬৫ রানে। ম্যাচ জেতার কৃতিত্ব তাই দলের সবাইকে ভাগ করে দিতে মোটেও কুণ্ঠা বোধ করেননি শান্ত। ম্যাচশেষে পুরস্কার বিতরণীতে তাকে জিজ্ঞেস করা হয় শরিফুলের বোলিং সম্পর্কে। জবাবে শান্ত বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে কৃতিত্ব দেওয়া যাবে না। ইউনিট হিসেবে প্রত্যেকেই ভালো বোলিং করেছে বলেই ওদের এ রানে আটকে রাখা গেছে। সম্মিলিতভাবে দলগত নৈপুণ্যের ফলাফলই এ জয়।’
বিপিএলের শেষ দিকে এসে ব্যাটে রানের দেখা পেয়েছিলেন লিটন দাস। প্রথম ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও এই ম্যাচে পারলেন। তার সঙ্গে পুরনো সৌম্য সরকারকেও দেখা গেল। দুজনে উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ শুরু এনে দেন বাংলাদেশকে। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ সবশেষ ৫০ রানের ওপেনিং জুটি দেখেছিল গত বছরের জুলাইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এতদিন বাদে আজ আবার ওপেনিংয়ে বড় জুটি এলো। ৬৮ রান আসে লিটন-সৌম্যের জুটিতে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চতুর্থবার ওপেনিং জুটিতে ৫০ রান তুলল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘লিটন-সৌম্য দুর্দান্ত শুরু এনে দিয়েছেন দলকে। মোমেন্টামটি আমরা ধরে রাখতে পেরেছি। দারুণ টিম গেম হয়েছে।
এর মাঝে এক পশলা উত্তেজনা ছড়িয়ে যায় সিলেটে। চতুর্থ ওভারের প্রথম বল করতে এসেই উইকেটের দেখা বিনুরা ফার্নান্দোর। শর্ট লেন্থের বল খেলতে গিয়ে কট বিহাউন্ড হলেন সৌম্য। তবে সৌম্যর কী ভেবে খটকা লাগায় নিলেন রিভিউ। রিভিউতে থার্ড আম্পায়ার রায় দিলেন সৌম্যর পক্ষে। রিভিউতে দেখা যায় বিনুরার প্রথম ডেলিভারিটি সৌম্যের ব্যাট পেরিয়ে যাওয়ার পরের ফ্রেমে আল্ট্রা এজে স্পাইক ধরা পড়ে। কিন্তু যেহেতু বল ব্যাট পেরোবার সময়ে স্পাইক ছিল না, সুতরাং থার্ড আম্পায়ার মাঠের সিদ্ধান্ত বদলে নট আউট ঘোষণা করেন। সৌম্য বেঁচে গেলেও লঙ্কান ক্রিকেটাররা নাখোশ হয়ে ওঠেন। ঘিরে ধরেন আম্পায়ারকে। কিছু সময়ের উত্তেজনা পেরিয়ে ফের খেলা শুরু হয়। এ নিয়ে অবশ্য কোনো অধিনায়কই কথা বলেননি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গত বছরের ৯ মার্চ সবশেষ ফিফটির দেখা পেয়েছিলেন শান্ত। প্রায় এক বছর পর আবার পেলেন ফিফটি। চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ফিফটি এটি শান্তর। ৪ চার ও ২ ছয়ে ৩৮ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। হৃদয় অপরাজিত থাকেন ২ চার ও ১ ছয়ে ২৫ বলে ৩২ রান করে।
একবছর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফটি করা ইনিংসে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এই ফরম্যাটে হলেন ম্যাচসেরা। নিজের ব্যাটিংয়ে খুশি ম্যাচসেরা শান্ত। জানান, ‘ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের প্রতি আমার দায়িত্ব রান করা। রানে ফিরে ভালো লাগছে। আশা করি এ ফর্মটি ধরে রাখতে পারব।’
লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কাও কৃতিত্ব দিলেন বাংলাদেশি ব্যাটারদের। বলেন, ‘আমরা কিছু রান কম করেছি ঠিকই তবে ওরা দারুণ ব্যাটিং করেছে। বিশেষ করে শান্ত, লিটন ও হৃদয়।’
