কুমারখালীতে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে যুবকের মৃত্যু

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৪, ০৫:০৪ পিএম

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে তারিকুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (০৭ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে কুষ্টিয়া সদর হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের বাড়ি উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের শেখ পাড়া। তিনি মৃত আ. রশিদ শেখের ছেলে।

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত তারিকুল ইসলাম কৃষিকাজের পাশাপাশি ছোট ব্যবসা করতেন। গত মঙ্গলবার রাতে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পাশে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যান। সে সময় তিনি বন্ধুদের জানান- তার ডান পায়ে সাপ কামড় দিয়েছে। সাথে সাথে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) দেখতে পেলেও কাছে লাঠি না থাকায় সাপটিকে মারতে পারেনি। তাৎক্ষণিক বন্ধুরা আক্রান্ত স্থানের ওপরে রশি দিয়ে বেঁধে দেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান, ওঝা দিয়ে চিকিৎসা করেন। ওঝার চিকিৎসা যথেষ্ট নয় ভেবে পরিবারের লোকজন তাকে রাতেই কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের শাশুড়ি সুন্দরী বেগম বলেন, মাঝেমধ্যেই পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যেত তারিকুল। মঙ্গলবার রাতে মাছ ধরার সময় সাপের কামড়ে আহত তারিকুল আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। 

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার জানান, কামড়ের দাগ ও ধরন দেখে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও স্বজনদের মুখে শুনে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের প্রতিবেশী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্কুলশিক্ষক বলেন, বিভিন্ন সময়ে পদ্মা ও গড়াই নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে রাসেলস ভাইপার সাপ ধরা পড়ে। কিছু পরিবেশবাদী সংগঠন ও ব্যক্তি ধরা পড়া বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার সাপগুলোকে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পদ্মা নদীর দুর্গম চরে ছেড়ে দেয়। আমার প্রশ্ন- পদ্মা নদীর দুর্গম চর বলতে কি বুঝায়! আর পদ্মা নদীর দুর্গম চর কোথায়!! পদ্মা নদীতে তো আর মরুভূমির মতো বড় চর নেই দুর্গম জায়গাও নেই তবুও অতি উৎসাহী কিছু পরিবেশবাদী অঞ্চলটি বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের আবাসভূমি বানিয়ে ফেলেছে। ইতিমধ্যেই কুষ্টিয়া অঞ্চলে গত দুই বছরের মধ্যে প্রায় ৮/১০ জন রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে মারা গেছেন। যা খুবই দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত ঘটনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত