গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি ৩১ হাজারের কাছাকাছি। এ অবস্থায় ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে; কারণ আসন্ন রমজান মাস শুরুর আগে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এর মধ্যে ইসরায়েল নতুন করে পশ্চিম তীরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ‘অবৈধ’ ইহুদি বসতি স্থাপন করার পরিকল্পনা করছে। এ নিয়ে ইসরায়েলের মিত্ররাও সমালোচনায় সরব হয়েছে।
গত বুধবার ইসরায়েলের বসতি স্থাপন কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, পশ্চিম তীরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ইহুদি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর হামাস কর্তৃক ইসরায়েলে অতর্কিত আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের মধ্যে তেল আবিবের মন্ত্রিসভা প্রথমবারের মতো এ ধরনের অনুমোদন দিল।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সব সময়ই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখেছে। এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র অর্জনের পথে বাধা হিসেবে দেখা হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানায়, পশ্চিম তীরের মালে আদুমিম, কেদার ও এফরাত অঞ্চলে বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে ইসরায়েলের কট্টর ইহুদিবাদী রাজনীতিক ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মটরিচ বলেন, ‘শত্রুরা আমাদের ক্ষতি ও দুর্বল করতে চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা নির্মাণ অব্যাহত রাখব এবং এই জায়গায় আমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করব।’
স্মটরিচ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই বসতি পরিকল্পনাকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছে। তারা বিবৃতিতে বলেছে, ‘আরও বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে ইসরায়েলকে নিবৃত্ত করতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাশা করে ফিলিস্তিন এবং এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিল ও স্মটরিচকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক, যারা অবৈধ বসতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে এবং অর্থায়ন করছে।’
এ বিষয়ে হামাস একটি বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ ‘জায়নবাদী পরিকল্পনা নিশ্চিতকরণের অংশ, যার লক্ষ্য হলো আমাদের ভূমি নিয়ন্ত্রণ করা, আমাদের মানুষকে বাধা দেওয়া এবং আমাদের বিচ্ছিন্ন করা। এই দুর্বৃত্ত শক্তি এবং এর নাৎসিবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ যেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’
জর্দানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে মারাত্মক হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন।
অবৈধ বসতি স্থাপনের এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। সেই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকা-ের নিন্দা জানিয়েছে তারা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনও এই পদক্ষেপকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছেন।
এদিকে হামাস গতকাল জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা-পর্ব শেষ করে মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে ফিরে এসেছেন তাদের প্রতিনিধি। আগামী সপ্তাহে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে। অর্থাৎ আসন্ন রমজানের আগে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সম্ভব হচ্ছে না।
হামাসের মুখপাত্র জিহাদ তাহা বলেন, যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতদের ফিরে আসার পথ তৈরিসহ সেনা প্রত্যাহার নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা ইসরায়েল দিচ্ছে না।
