গাইবান্ধা সদর উপজেলায় টিসিবি'র (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) পণ্য নিতে গিয়ে এক ইউপি চেয়ারম্যানের কিল-ঘুষিতে আহত হয়েছেন মোজাহিদ ইসলাম নামে এক দিনমজুর। আহত মোজাহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে হামলার এই ঘটনাটি ঘটে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ঘটে। স্ত্রী রুমা বেগমের নামে টিসিবির কার্ডের মালামাল নিতে গিয়ে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদে এই হামলার শিকার হন মোজাহিদ ইসলাম।
আহত মোজাহিদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান মোসাব্বির হোসেন হঠাৎ করে তার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় তিনি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে পরিষদ থেকে বের করে দেন চেয়ারম্যান মোসাব্বির হোসেন।
এদিকে, ঘটনার সময়ে এক প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ছড়িয়ে পড়ে ৩৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি। ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান মোসাব্বির পরিষদ থাকা বেশ কিছু লোকজনদের বের করে দিচ্ছেন। এ সময় গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা মোজাহিদকে লক্ষ্য করে মাথায় ও বুকে পিঠে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন চেয়ারম্যান মোসাব্বির। শুধু তাই নয়, মোজাহিদকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বের করে দেন চেয়ারম্যান মোসাব্বির।
আহত মোজাহিদ ইসলাম (৪৫) রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বড় মহানন্দপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। তার স্ত্রী রুমা বেগমের নামে একটি টিসিবির কার্ড রয়েছে। যার কার্ড নম্বর-৩২১২৪৮১০০২১৫২।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর মোজাহিদ জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদে টিসিবির কার্ডের মালামাল দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু বিকেল ৩টার দিকে সর্বশেষ প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ জন কার্ডধারীকে মাল দিতে সময়ক্ষেপণ করেন টিসিবির সংশ্লিষ্ট ডিলার। পরে চেয়ারম্যান মোসাব্বির হোসেন ও সংশ্লিষ্ট ডিলারের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু অপেক্ষা করেও বিকেল ৫ টা পর্যন্ত মাল পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে উপস্থিত কার্ডধারীদের মাঝে হৈ চৈ শুরু হয়। এতেই চেয়ারম্যান মোসাব্বির ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
মোজাহিদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান মোসাব্বির কারণ ছাড়াই অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। তাকে ধাক্কা মারতে মারতে পরিষদ থেকে বের করে দেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি চেয়ারম্যান মোসাব্বির হোসেনকে। এমনকি মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
