ডিবি কার্যালয়ে ছাত্রীর মুখোমুখি জবির ২ শিক্ষক

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪, ০৩:৩৮ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম ও টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষক আবু শাহেদ ইমনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন একই বিভাগের ছাত্রী কাজী ফারজানা মীম। গত সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে গিয়ে ওই ছাত্রী এ অভিযোগ করার পর গতকাল বুধবার দুই শিক্ষককে ডিবি কার্যালয়ে ডাকা হয়।

সেখানে কাজী ফারজানা মীমের মুখোমুখি করা হয় বিভাগের চেয়ারম্যান জুনায়েদ আহমেদ হালিম ও শিক্ষক আবু শাহেদ ইমনকে। মীম এ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শরণাপন্ন হওয়ার পরদিন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ডিবি অফিসে কথাবার্তা শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দুপক্ষই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। যৌন হয়রানির অভিযোগকে ‘কাল্পনিক’ বলে দাবি করেন শিক্ষক আবু শাহেদ ইমন। তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালে ঘটনার কথা উল্লেখ করে ২০২২ সালে কাল্পনিক একটি অভিযোগ দেয় ওই শিক্ষার্থী। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্ল্যাকার্ড আন্দোলন হয়েছে। এ ঘটনায় মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন উচ্চ আদালতে যাওয়া ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে ডিবি ডেকেছিল। তারা (ডিবি) যা জানতে চেয়েছে সব তথ্য দিয়েছি।’

আর জবির ফিল্ম ও টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান জোনায়েদ হালিম বলেন, ‘মীম দ্বিতীয় ও সপ্তম সেমিস্টারের ক্লাস ও অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেননি।’

দুই শিক্ষক ও অভিযোগকারী ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর ঢাকা মহানগর ডিবির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘দুই পক্ষকে আমরা ডেকেছি। ভুক্তভোগী মীম আমাদের বলেছে, সে যেন স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে। আর যেন কেউ ডিস্টার্ব না করে। আমরা বিষয়টি শিক্ষকদের বলেছি। তারা বলেছে, তারা কোনো ডিস্টার্ব করবেন না। এরপরেও যদি মীমকে কেউ ডিস্টার্ব করে তাহলে মীমকে বলা হয়েছে আমাদের ডিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে যেন জানানো হয়। তারা পরে ব্যবস্থা নেবে।’ যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আমরা তদন্ত করছি।’

মীম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মিডিয়ায় বক্তব্য দেওয়ার কারণ অভিযুক্ত শিক্ষকরা নানা মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছিলেন। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম। এটা নিয়ে ডিবিতে অভিযোগ দিয়েছিলাম।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত