শিক্ষা পরামর্শ

মস্তিষ্ক সজীব রাখার কৌশল

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৪, ০৩:০০ এএম

শরীরকে সুস্থ রাখতে যেমন শরীরচর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি প্রয়োজন হয়, তেমনি শরীরকে যে চালায় সেই মস্তিষ্ককেও সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজন কিছু নিয়ম মেনে চলা। মস্তিষ্ককে সজীব ও প্রাণবন্ত রাখার কৌশল জানাচ্ছেন চৌধুরী শ্রাবন্তী বড়ুয়া

প্রাণখোলা হাসি : প্রাণখোলা হাসি অনেক কিছুই বদলে দিতে পারে। আপনার ভেতরের হতাশাবোধ, অভিমান বা ক্লান্তি নিমিষে দূর করে দেয় প্রাণখোলা হাসি। দিনে অন্তত একবার তিরিশ মিনিট প্রাণ খুলে হাসলে নতুন কিছু শেখা ও মনে রাখার ক্ষমতা শতকরা ৩৮ ভাগ বেড়ে যায়। মানুষ যখন হতাশায় ডুবে যায় বা ক্লান্তিতে নুয়ে পড়ে তখন প্রাণখোলা হাসি ভেতর থেকে আসে না। কিন্তু গবেষকরা জানিয়েছেন, হাসির চেষ্টা করলে বা অনুকরণ করলেও এই সুফল পাওয়া যায়। জোরে জোরে হাসির চেষ্টা করলেও হতাশ ভাব কেটে যায়, বিমর্ষ ভাব দূর হয় এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়।

খাবারের তালিকায় মাছ : মস্তিষ্ককে সজীব রাখতে খাবারের তালিকায় রাখতে হবে নির্দিষ্ট কিছু মাছ। ভেঁটকি, ইলিশ, রুই, কাতল, চিতল ইত্যাদি মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, আয়োডিন, ভিটামিন ডি, প্রোটিন, ফসফরাসসহ নানা খনিজ উপাদান থাকে, যা আমাদের মস্তিষ্ককে সজীব ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

শরীরচর্চা : শরীরকে সুস্থ রাখতে শরীরচর্চা বা ব্যায়াম যেমন জরুরি, তেমনি মস্তিষ্ককে সুস্থ ও সজীব রাখার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত শরীরচর্চা। মস্তিষ্কের স্মরণক্ষমতা ধরে রাখার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম করার পরামর্শ গবেষকদের। এক্ষেত্রে ভারী ব্যায়াম না করতে পারলেও ক্ষতি নেই। হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার, অ্যারোবিকসের মতো হালকা ব্যায়ামেও পাওয়া যাবে সুফল।

হলুদ : মস্তিষ্ককে সজীব রাখতে এবং বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে হলুদ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। খাবারের সঙ্গে নিয়মিত দিনে এক চা চামচ হলুদ গ্রহণ করলে মস্তিষ্ক রক্ষা পাবে যে কোনো সংক্রমণ থেকে। স্মরণশক্তি হ্রাস প্রতিরোধে ডিমেনশিয়া রোগীদের পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় হলুদ।

প্রতিদিন নয় নিয়ম : মস্তিষ্ককে সজীব রাখতে মাঝে মাঝে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। প্রতিদিন একই রুটিন মেনে চললে জীবনে একঘেয়েমি চলে আসে, মস্তিষ্কে নতুন কোনো স্নায়ুসন্ধি গড়ে ওঠে না। ফলে মস্তিষ্ক ঝিমিয়ে পড়ে। তাই মস্তিষ্ককে সজীব রাখতে হলে তাকে নতুন নতুন স্নায়ুসন্ধি গড়ে তোলার জন্য প্রণোদিত করতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন রুটিনের বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করা। এর জন্য জীবনযাপনে বড় কোনো পরিবর্তন আনার দরকার নেই। বরং চায়ের বদলে কফি পান বা নিজস্ব গাড়ির বদলে সাধারণ যানবাহন ব্যবহার বা স্রেফ ডান হাতের বদলে বাম হাতে দাঁত মাজলেই চলবে। এতে করে মস্তিষ্ক সজীব থাকে।

প্রকৃতির সঙ্গ : প্রকৃতির সঙ্গ মস্তিষ্ককে সজীব রাখে। তা হতে পারে পার্কে এলোমেলো হেঁটে বেড়ানো বা ছাদে অথবা বাড়ির সামনে শখের বাগান করা। দিনের মধ্যে ৩০ মিনিটের প্রকৃতি সঙ্গ মস্তিষ্কের তারুণ্য ধরে রাখতে প্রভূত সাহায্য করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত