ঈদকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহীর সিল্ক শ্রমিকরা। এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে শোরুমগুলো। সেই সঙ্গে কারখানাগুলোতে চলছে দিনরাত ব্যস্ততা। তবে, এখনো এখানকার সিল্কপাড়া সেভাবে জমে না উঠলেও ক্রেতারা আসছেন, পছন্দের পণ্যটি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বিক্রেতারা বলছেন, ১৫ রোজার পর থেকে বাড়তি চাপ আশা করছেন তারা। এবারে ভালো ব্যবসার আশা করছেন সিল্ক ব্যবসায়ীরা। শেষ পর্যন্ত এখানে ৫০ কোটি টাকার ব্যবসার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রমজানের কদিন আগে থেকেই ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে রাজশাহী নগরীর সিল্ক কারখানাগুলোতে কারিগররা ব্যস্ততম সময় শুরু করেন। সপুরা সিল্কে গিয়ে দেখা গেল, কারিগররা কেউ রেশমের গুটি থেকে সুতা তৈরি করছেন, কেউ কাপড় তৈরিতে ব্যস্ত আবার কেউ কাঠের ফ্রেমে বেঁধে শাড়ি, ওড়না, পাঞ্জাবি ইত্যাদিতে বাহারি রঙের কারুকার্য জুড়ে দিয়ে তৈরি করছেন নান্দনিক নকশা। ঊষা সিল্কের শোরুমে গিয়ে দেখা গেল থরে থরে সাজানো সিল্কপণ্য।
সিল্কের শ্রমিকরা জানান, বছরজুড়েই তাদের হাতে কাজ থাকে। তবে অন্যান্য সময়ের চেয়ে এই রমজান মাসের ব্যস্ততাটা অন্যরকম। এখন শুধু কাজ আর কাজ।
রাজশাহীর সপুরা সিল্ক, ঊষা সিল্ক, আমানা সিল্ক, রাজশাহী সিল্কসহ সব প্রতিষ্ঠানেই এখন ক্রেতার জন্য অপেক্ষা চলছে। তারা বলছেন, এবার সিল্কের শাড়ি ও পাঞ্জাবির দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা। এর পাশাপাশি থ্রিপিস ও অনান্য সামগ্রীও কিনছেন তারা।
রাজশাহী সপুরা সিল্কে শাড়ি কিনতে এসেছিলেন নাহিদা আখতার। তিনি বলেন, সিল্কের প্রতি ঝোঁক আগে থেকেই। ঈদ এলে আগ্রহ বাড়ে আরও বেশি। এবারে নতুন ডিজাইন কিছু এসেছে। প্রথমে বাচ্চাদের কাপড় কিনব। পরে নিজে পছন্দ করে শাড়ি কিনব। এছাড়া হাজব্যান্ডের জন্য পাঞ্জাবি কেনার ইচ্ছা রয়েছে।
নওরিন আরা জানান, সিল্কের শাড়ি কিনবেন ঈদে। যেসব শাড়ি দেখছেন সেগুলো ভালোই লাগছে তার। দাম নিয়েও কোনো অভিযোগ নেই নওরিনের। তিনি বললেন, সব কিছুরই দাম বেড়েছে, এ কারণে কাপড়ের দাম কিছুটা বাড়বে এটা ধরে নিয়েই বাজারে এসেছি।
রাজশাহী সিল্ক ফ্যাশনের ম্যানেজার সেলিম রেজা বলেন, আশা করছি অন্য বছরের চেয়ে এবার ভালো ব্যবসা করব। কিছু ক্রেতা এখন সন্ধ্যায় আসছেন। তবে ১৫ রমজানের পর থেকে হয়তো পূর্ণভাবে ক্রেতারা আসবেন। তিনি বলেন, রমজানে সাধারণ শাড়ি, থ্রিপিস, পাঞ্জাবি চলে। আমরা এবার এগুলোর ওপর ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি।
সপুরা সিল্ক মিলস লি.-এর ম্যানেজার সাইদুর রহমান বলেন, প্রতিবারের চাইতে এবার আমরা আরও বেশ ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। রমজানের শুরুতে এবার ছুটিও গেছে। ফলে সে কয়েকদিন বেশ ভালো ব্যবসা হয়েছে। মানুষের ভিড়ও ছিল।
তিনি বলেন, এবার আমরা ৩ হাজার থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের শাড়ি বানিয়েছি। এছাড়া আমাদের আছে পাঞ্জাবি, শার্ট, থ্রিপিস, ওড়না, স্কার্পসহ সিল্কের সব কিছুই।
রাজশাহী সিল্ক মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, শোরুম সকাল থেকে রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত খোলা রাখি। এবার সিল্কের দাম বাড়ানো হয়নি। আগের মতোই রাখা হয়েছে। সিল্কের পর্যাপ্ত চাহিদা আছে। সেই অনুযায়ী আমরা এগোতে পারছি না। তবে আমার চেষ্টা করছি। এবার আমরা আশা করছি অন্তত ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে। প্রতিবারের মতো এবারো রোজার মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে ব্যবসা জমবে বলে আমরা আশাবাদী।
