আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত মাসব্যাপী গণ ইফতারের ১১তম দিনে বিজয়নগর ৭১ চত্বরে অসহায় মানুষের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলামসহ বেশ কয়েকটি গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা।
সানজিদা ইসলাম গুমের শিকার পরিবারের সদস্য। তার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমন গুমের শিকার হন ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে, বিএনপির রাজনীতি করতেন বলে তাকে গুম করার অভিযোগ রয়েছে। পরে ভাইকে খুঁজে ফেরার লড়াই থেকে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মায়ের ডাক’ নামক মানবাধিকার সংগঠনটি। যা ইতোমধ্যে পুরো দুনিয়ার মানবতাবাদী মানুষ এবং সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
গণইফতার পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সানজিদা ইসলাম, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা।
সানজিদা বলেন, প্রিয়জনকে হারানোর কষ্টের যেন শেষ নেই। কারণ আমরা আমাদের ভাই এবং স্বজনদের কারো মৃত্যুর খবর পাইনি, জানাজা দিয়ে কারো লাশ দাফন করতে পারিনি। বছর শেষে বিশেষ কোনো দিনে দোয়ার আয়োজন করা বা কবর জেয়ারত করতে পারছি না। কারণ আমরা জানি না ওনারা বেঁচে আছেন না রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন নাকি এখনও আয়না ঘরে বন্দি আছেন। এই অজানা আশঙ্কায় দিন কাটানোর বেদনা গুমের পরিবার ছাড়া অন্য কেউ বুঝবে না।
এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, অনেক প্রাণের বিনিময়ে যে গণপ্রজাতন্ত্র আমরা কায়েম করতে চেয়েছিলাম পাঁচ যুগ পেরিয়ে অধরাই রয়ে গেল। অবৈধ সরকারের সমালোচনা করা সংবিধানসিদ্ধ হলেও বাকশালসিদ্ধ নয়। বৈষম্য আর অধিকারের প্রত্যয় নিয়ে যে দেশে মুক্তির লড়াই হয়েছিল, সেদেশের ৯৫ ভাগ মানুষের অধিকার আজ আওয়ামী দখলদারদের হাতে বন্দি হয়ে আছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ সব কিছুই হারিয়ে গেছে নিজ দেশের আওয়ামী হানাদারদের হাতে। চেতনার খোলসে নির্বাচন ও ভোটকে ধ্বংস করে দিয়ে আওয়ামী লীগ ইয়াহিয়া আর আইউব খানের সামরিক শাসন কায়েম করে রেখেছে গণতন্ত্রের মোড়কে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নাগরিকদের করের টাকায় তাদের গুম, খুন ও জেলে বন্দি করবার মহৌৎসব চলছে। আমরা এগুলোর অবসান চাই। সেজন্য দরকার সম্মিলিত লড়াই, প্রতিবাদ ও গণন্দোলন।
দেড় যুগ আগে গুম হয়ে যাওয়া শত শত পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন নাসরিন জাহান স্মৃতি। তার স্বামী ইসমাইল হোসেন বাতেনকে ২০১৯ সালের ১৯ জুন গুম করা হয় তার মিরপুরস্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে।
নাসরিন স্মৃতি বলেন, প্রায় পাঁচ বছর হতে চলেছে আমরা তার কোনো খবর পাচ্ছি না। পুলিশ, র্যাব থেকে শুরু করে এই রাষ্ট্রের কেউ কোনো সহযোগিতা করছে না। আমার দুটি নিষ্পাপ সন্তান নিয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে বেঁচে থাকাটা অনেক কষ্টের। মাঝে মাঝে মনে হয় যে আর পারছি না, হাল ছেড়ে দেই। কিন্তু আমরা লড়াই করে বেঁচে থাকতে চাই আপনাদের দোয়া এবং সহযোগিতা নিয়ে।
গণইফতারে আরো উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক বিএম নাজমুল হক, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার ফারুক, যুগ্ম সদস্যসচিব কেফায়েত হোসেন তানভীর, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মশিউর রহমান মিলু, রিপন মাহমুদ, পল্টন থানা আহবায়ক আব্দুল কাদের মুন্সি, যাত্রাবাড়ী থানা সমন্বয়ক সিএম আরিফসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
