কেজরিওয়ালকে ৭ দিনের হেফাজতে পেল ইডি

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৪, ০৩:২৯ এএম

আবগারি মামলায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে সাত দিনের হেফাজতে পেল ভারতের কেন্দ্রীয় আর্থিক অনিয়ম তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি); অর্থাৎ ২৮ মার্চ পর্যন্ত ইডির হেফাজতে থাকবেন তিনি। ইডি ১০ দিনের হেফাজতে চেয়েছিল। এদিকে লোকসভা নির্বাচনের সূচি প্রকাশের পর নির্বাচনী আচরণবিধি চলা অবস্থায় কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে গতকাল শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বিরোধী জোট ‘ইনডিয়া’র শরিকরা।

নিয়ম মোতাবেক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গতকাল কেজরিওয়ালকে আদালতে হাজির করানো হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিবিআই) বিশেষ বিচারক কাবেরী বাওয়েজার এজলাসে মামলার শুনানি ছিল। ইডির পক্ষে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু উপস্থিত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, ‘আবগারি দুর্নীতির হোতা (কিংপিন) হলেন কেজরিওয়াল।

ইডি আদালতে জানায়, অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইনের নির্দিষ্ট ধারা মেনেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে। জামিনের বিরোধিতা করে ইডি জানায়, অপরাধে সরাসরি যুক্ত ছিলেন কেজরিওয়াল। কিছু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার জন্যই ওই আবগারি নীতি আপ প্রণয়ন করেছিল। দুর্নীতির টাকা গোয়া এবং পাঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচনে কাজে লাগিয়েছিল আপ। আদালতে ইডির তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, আবগারি মামলায় ‘সাউথ গ্রুপ’কে সুবিধা পাইয়ে দিতে টাকা চেয়েছিলেন কেজরিওয়াল। অনিয়ম করে লেনদেন করা অর্থের পরিমাণ ৬০০ কোটিতেও পৌঁছাতে পারে।

কেজরিওয়ালের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ও কংগ্রেসের নেতা অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বাসযোগ্য কারণ ছাড়া কাউকেই গ্রেপ্তার করা যায় না। গ্রেপ্তার করার জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য কারণ দেখাতে পারেনি ইডি।’

দিল্লির আবগারি মামলায় আপপ্রধানকে মোট নয়বার সমন পাঠিয়েছিল ইডি। কিন্তু আটবারই হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। শেষ পাঠানো সমনে গত বৃহস্পতিবারই ইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে। কিন্তু হাজিরা না দিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে দ্বারস্থ হন কেজরিওয়াল। হাইকোর্ট তা খারিজ করলে সুপ্রিম কোর্টে যান তিনি। গতকাল শুক্রবার শীর্ষ আদালতে মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু শুনানির আগেই আবেদন প্রত্যাহার করে নেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে এই মামলায় দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

অভিযোগ উঠেছে, আবগারি নীতি তৈরি করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির নেতারা প্রায় ১০০ কোটি রুপি ঘুষ পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে এই নীতির ফলে সরকারের ২ হাজার ৮০০ কোটি রুপির রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

মদের কালোবাজারি বন্ধ করা এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২১ সালে দিল্লির লাইসেন্সধারী মদ বিক্রেতাদের একাধিক ছাড় দিতে আবগারি নীতি চালু করেছিল কেজরিওয়ালের সরকার। মদের হোম ডেলিভারি এবং দোকানগুলো ভোর ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

দিল্লি সরকার দাবি করেছিল, আবগারি নীতি তৈরির ফলে সরকারের আয় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৯০০ কোটি রুপি। তবে মদের এই বিপুল ছাড়ের ফলে রাজধানীতে অর্থনৈতিক অপরাধ বেড়ে গেছে বলে কেন্দ্রীয় সরকারকে রিপোর্ট করেছিলেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনা। তিনি সিবিআইকে তদন্তের পরামর্শও দেন। পরে এই নীতি প্রত্যাহার করে দিল্লি সরকার।

এদিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেপ্তার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করলেন বিরোধী জোট ‘ইনডিয়া’র প্রতিনিধিরা। বৈঠকের পর বেরিয়ে তারা জানান, এ ঘটনায় কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা। কারণ ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে আসলে বিরোধীদের কোণঠাসা করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।

বৈঠকের পর বেরিয়ে কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এখানে প্রায় সব কটি বিরোধী দলের প্রতিনিধি রয়েছেন। গত রাতে যা হয়েছে (কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তার), তা নিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের বিষয় নয়, সংবিধানের সাধারণ কাঠামোর বিষয়। নির্বাচনের জন্য সমান, সমতল মাঠ প্রয়োজন। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল এজেন্সির অপব্যবহার করে সেই সমতল মাঠটির ক্ষতি করছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত