বগুড়ার সাতমাথায় আগুনে পুড়ে ১২টি ফলের দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। এতে নগদ টাকাসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শহরের সাতমাথা এলাকার সপ্তপদী মার্কেট ও বিআরটিসি মার্কেট সংলগ্ন ফল মার্কেটটিতে এঘটনা ঘটে। ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা।
শনিবার বেলা ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানের মাঝে নিজেদের খুঁজে ফিরছেন, আবার অনেকে বোবাকান্নায় নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও ওই ফল মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সুত্রে জানা যায়, শহরের সাতমাথা এলাকার সপ্তপদী মার্কেটের পশ্চিম পাশে ১২টি ফলের দোকান অবস্থিত। প্রতিটি দোকানেই খেজুর, আপেল, কমলা, মাল্টাসহ বিভিন্ন ধরনের ফল মজুত ছিল। রাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ব্যবসায়ীরা ছুটে আসেন। এসে দেখেন—দোকানগুলো দাউদাউ করে জ্বলছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভস্মীভূত হয়ে যায় দোকানগুলো। সেই দিনের বেচাকেনার নগদ টাকাগুলো ক্যাশবাক্সে ছিল। সেগুলোও পুড়ে যায়।
শনিবার বেলা ১২টার দিকে ওই ফল মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, দোকানে রাখা সকল ফল পুড়ে গেছে। এবং যা অবশিষ্ট রয়েছে তা বিক্রয় বা খাওয়ার উপযুক্ত না। দোকানগুলো আগুনে পুড়ে সকল কিছু ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে।
এসময় কথা হয় ফল ব্যবসায়ী লাল মিয়া, সাগর, সেকেন্দারসহ আরও অনেকের সাথে। তারা জানান, নগদ টাকাসহ প্রতিটি দোকানে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার করে মালামাল ছিল। আমরা বেচাকেনা করে নগদ টাকা রেখে গিয়েছিলাম। আগামীকাল ওই টাকাগুলো মহাজনদের দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকাসহ আমাদের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আমরা পথে বসে গেলাম।
এদিকে রাত ১টা ১০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে ধারণা করছেন বগুড়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মঞ্জিল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণ করা যায়নি। তবে দোকান মালিকদের দাবি ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মারধরের মামলা, সাভারে বাবাসহ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার