বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ গুরুতর অবনতি হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে আপাতত বাসাতেই চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
এদিকে দুর্নীতির দুই মামলায় সাজা পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে সাময়িক মুক্তির মেয়াদ আগের শর্তেই (ঢাকাতেই চিকিৎসা এবং বিদেশে যেতে পারবেন না) আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে আট দফায় তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ল।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে গতকাল রাতে সংবাদ সম্মেলনে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বেগম জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী রাতে হাসপাতালে নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি সুস্থবোধ করায় তাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ গতকাল ইফতারের পর বেগম জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা ফিরোজায় যান এবং সেখানে তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয় বলে জানান ডা. জাহিদ।
এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছিল, শারীরিক অবস্থার হঠাৎ গুরুতর অবনতি হওয়ায় তাকে যেকোনো সময় হাসপাতালে নেওয়া হবে। হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়ে নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর চিঠিও দিয়েছিলেন বেগম জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, এর আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১৩ মার্চ খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পরদিন ১৪ মার্চ বাসায় ফেরেন তিনি।
আগের শর্তেই বাড়ল মুক্তির মেয়াদ : খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে সাময়িক মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। এতে বলা হয়েছে, বর্ধিত সময়ে খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে পারবেন না। গত ২১ মার্চের এ প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে গতকাল জানা যায়।
এর আগে গত ২০ মার্চ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত দিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, আগের শর্তেই খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ছে এবং এ বিষয়ে মতামত দিয়ে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুটি মামলায় ১৭ বছর কারাদণ্ড হয়েছে খালেদা জিয়ার। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে হাইকোর্ট তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তাকে সাত বছর কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা আপিল বিচারাধীন রয়েছে। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করলে কারাবাস থেকে মুক্তি পান তিনি। এরপর আরও কয়েক দফায় তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়।
৭৮ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, লিভার সিরোসিসসহ নানা রোগে ভুগছেন বলে তার চিকিৎসকরা জানিয়ে আসছেন। এজন্য তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার পরিবার ও বিএনপি তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য দাবি তুললেও সরকার বলে আসছে, শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তিতে থাকায় তাকে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ নেই।
