বঙ্গবন্ধুর দেহরক্ষীর পরিবারের কাছে টাকা দাবি, ওসি প্রত্যাহার

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৪, ০৬:০৯ এএম

বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রয়াত গানম্যানের পরিবারের কাছে টাকা দাবির অভিযোগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানার ওসি ও থানাটির এক সহকারী উপপরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জিএমপি কমিশনারের এক আদেশে তাদের দুজনকে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ লাইনে সংযু ক্ত করা হয়।

প্রত্যাহার হওয়া দুজন হলেন গাছা থানার ওসি মো. শাহ আলম ও এএসআই আল আমিন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিএমপির একজন উপকমিশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গানম্যান ও দেহরক্ষী বীর মুক্তি যোদ্ধা মৃত মোহাম্মদ ইসলামের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার বাদশা মিয়া স্কুল রোড এলাকায় জমি কিনে বসবাস করে আসছেন। পাঁচ মাস আগে নগরীর মোগরখাল এলাকার আব্দুল মান্নানের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকায় ৮ শতাংশ জমি কেনেন প্রয়াত মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে মো. আ. জলিল। ২৫ লাখ টাকার মধ্যে নগদ সাড়ে ৯ লাখ টাকা এবং ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাকি রেখে ওই জমির রেজিস্ট্রির কাজ সম্পন্ন হয়। কথা ছিল দুই থেকে তিন মাস পর বাকি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করবেন আ. জলিল। তার অন্য আরেকটি জমি বিক্রি করে ওই টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও সেই জমি বিক্রি করতে না পেরে বাকি টাকা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে পারেননি। এ নিয়ে মনোমালিন্য হলে উকিল নোটিস পাঠান আব্দুল মান্নান। এ ছাড়া চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জমি বিক্রেতা আব্দুল মান্নান গাছা থানায় মো. আ. জলিলকে আসামি করে একটি অভিযোগ দেন।

মো. আ. জলিল জানান, অভিযোগটি তদন্ত করতে গত ১১ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের বাড়িতে সাদা পোশাকে যান গাছা থানার এএসআই আল আমিন। বাড়িতে যাওয়ার পরই এএসআই আল আমিন হন্য হয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। ঠিক ওই সময়ে তিনি বাথরুমে থাকায় তার ছেলে এগিয়ে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ছেলের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। পরে তিনি বেরিয়ে এলে তার সঙ্গেও বাজে আচরণ ও  গালাগাল করা হয়। পরে তাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার একপর্যায়ে এএসআই আল আমিন তার কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে তিনি জমি বিক্রেতার কাছ থেকে কয়েক মাসের সময় নিয়ে দেবেন বলে জানান। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার সঙ্গে আরও খারাপ ব্যবহার করা হয়। পরে তাকে গাছা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। গাছা থানার নিচতলায় নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে বসিয়ে রেখে তার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করা হয়। একপর্যায়ে জলিলের গায়ে হাত তোলেন এএসআই আল আমিন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক থানার ওসি শাহ আলমকে জানালে তিনি কোনো প্রতিকার না করে তাকে পাওনাদারের টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে বলেন। পরদিন ১২ মার্চ মো. আ. জলিল বিষয়টি গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহাবুব আলমকে মৌখিকভাবে এবং পরে লিখিতভাবে অবগত করেন।

আ. জলিল বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাস নিয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। তিনি এর সঠিক বিচার করেছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত