গল্পটাই আমাকে নিয়ে হবে এমন চরিত্র এখনো পাইনি

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ০৮:৫৮ এএম

পেশাগতভাবে চাকরি করেন। বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা। পাশাপাশি অভিনয়ও করেন নিয়মিত; তবে সেটা একান্তই মনের তাগিদে। বলছি আজম খানের কথা। এবার ঈদে তাকে দেখা যাবে বেশ কিছু নাটকে। পাশাপাশি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দেয়ালের দেশ’ সিনেমায়ও রয়েছেন তিনি। চাকরি, অভিনয়, ব্যস্ততা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন ইমরুল নূর

একডজনের বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এবার ঈদে মুক্তি পেতে যাওয়া নতুন সিনেমাটি সম্পর্কে জানতে চাই...

এখানে আমি একটা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপালের চরিত্রে অভিনয় করেছি। সিনেমাটির গল্প তৈরি হয়েছে এই মেডিকেল কলেজকে ভিত্তি করেই। যেহেতু সিনেমাটি এখনো মুক্তি পায়নি তাই এর চেয়ে বেশি এখন বলার সুযোগ নেই।

এই সিনেমার বাইরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে শোয়েবুর রহমান রাসেলের ‘নন্দিনী’, কবরী সারোয়ারের ‘এই দিন সেই দিন’, আবু সাইয়ীদের ‘সংযোগ’, অনিরুদ্ধ রাসেলের ‘জামদানী’।

চাকরিজীবী হয়েও নিয়মিত অভিনয় করছেন। একসঙ্গে কীভাবে ব্যালেন্স করেন?

অভিনয়টা আমার প্যাশন। অফিসের বাইরে ব্যক্তিগত সময়টা অভিনয়ে দেওয়া হয়। আমরা যারা বাবা-কাকার চরিত্রগুলো করি, সেগুলোর জন্য অনেক বেশি সময় লাগে না। দেখা যায়, বিকেলে বা সন্ধ্যার পর কিংবা ছুটির দিনে কাজ করা হয়। তবে ঢাকার বাইরে হলে সে ক্ষেত্রে ছুটি নিতে হয়। ঢাকার মধ্যে হলে খুব একটা সমস্যা হয় না, সময়টা ম্যানেজ করে নিই।

প্রায় এক দশকের অভিনয় ক্যারিয়ার। এই সময়ে ইন্ডাস্ট্রির বাঁকবদল কেমন দেখেছেন?

দেশে একসময় প্রচুর সিনেমাহল ছিল, যেটা এখন অনেক কমে গেছে। এখন সিনেপ্লেক্সের একটা জোয়ার এসেছে এবং আস্তে আস্তে সংখ্যাটা বাড়ছে। সিনেমা তো আসলে কেউ একা দেখে না। বন্ধুবান্ধব কিংবা পরিবার নিয়ে দেখে, বিশেষ করে উৎসবগুলোতে। সিনেপ্লেক্সের সংখ্যাটা আরও বাড়া উচিত বলে মনে করি এবং ইন্ডাস্ট্রিতে একটা সুস্থ সিনেমার প্রতিযোগিতা থাকা উচিত।

আমাদের দেশে প্রবীণ চরিত্র, অর্থাৎ সিনিয়র চরিত্রগুলোকে নিয়ে আলাদা করে ভাবা হয় না। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

মাঝখানে একটা সময় ছিল যখন গল্পে বাবা-মা, ভাই-বোনের চরিত্রগুলো থাকত না। এর মূল কারণ হচ্ছে বাজেট সংকট। একটা পরিপূর্ণ, সুন্দর গল্প বলতে গেলে কিন্তু অবশ্যই সবাইকে প্রয়োজন। বাজেট স্বল্পতার কারণে সেটা সম্ভব হতো না। তবে এখন কিন্তু আর সেটা নেই। অনেক সুন্দর সুন্দর গল্পে কাজ হচ্ছে, গল্পপ্রধান কাজ হচ্ছে। যেখানে অনেক চরিত্রের মেলবন্ধন দেখা যাচ্ছে। যেটা আসলেই খুব ভালো।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে, যাদের একটু ভিউ আছে তাদের হয়তো একটু বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া হয়। আমাদের দেশে কিন্তু একজন আবুল হায়াত, একজন তারিক আনাম খান আছেন। তাদের বেইজ করে কিংবা তাদের চরিত্র ঘিরে কিন্তু সিনেমার সংখ্যা কম। উপমহাদেশে অনেক জায়গায় হয়, আমাদের এখানেও ভাবা উচিত। একজন আবুল হায়াত, তারিক আনাম খান কিংবা দিলারা জামানকে বেইজ করে যদি গল্প হয় তাহলে কিন্তু দর্শক দেখবে। যদি সুন্দর করে বানানো হয়। এতে করে পরিবারপ্রধান সিনেমার দর্শকগুলো আবার ফিরে আসবে। নতুন প্রজন্মের কাছে পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে ওই ধরনের গল্পের সিনেমা প্রয়োজন।

এমন কোনো পছন্দের চরিত্র রয়েছে যে চরিত্রে অভিনয় করতে চান কিন্তু হয়ে ওঠেনি?

হ্যাঁ। একটা অতৃপ্তি আছে। এই চরিত্রটা কেমন হবে, সেটা হয়তো আমি কল্পনায় ভাবতে পারি কিন্তু বাস্তবতার আলোকে ওই চরিত্রটা তৈরি হবে, এখনো সেই সুযোগটা পাইনি। সিনেমার গল্পটাই আমাকে নিয়ে হবে, এমন চরিত্র এখনো পাইনি। বলতে পারেন, গল্পটা আমাকে কেন্দ্র করে হয়েছে সে রকম একটা চরিত্রে কাজ করার আগ্রহ, ইচ্ছে দুটোই আছে। এটা এখনো হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত