রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

টাঙ্গাইলের বড় মনিরের বিরুদ্ধে এবার ঢাকায় ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ০২:৫২ এএম

টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিরের বিরুদ্ধে এবার ঢাকায় ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি টাঙ্গাইল-২ আসনের এমপি তানভির হাসান ওরফে ছোট মনিরের বড় ভাই। টাঙ্গাইলে হওয়া আগের একটি ধর্ষণের মামলায় বর্তমানে জামিনে আছেন জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির এই মহাসচিব।

গত শুক্রবার মধ্যরাতে ৯৯৯-এ কল দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করেন এক কলেজছাত্রী। এরপর তুরাগ থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে রাতভর নানা নাটকীয়তা শেষে আসামিকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে অভিযোগ নেয়।

ভুক্তভোগী ওই তরুণী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সূত্র ধরে দুই মাস আগে বড় মনিরের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরার জমজম টাওয়ারে তাদের প্রথম দেখা হয়। পরে শুক্রবার রাতে আবারও রেস্টুরেন্টে দেখা করার কথা বলে ভুক্তভোগীকে রাজধানীর তুরাগ এলাকার প্রিয়াঙ্কা সিটিতে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান বড় মনির। সেখানেই তাকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ওই ছাত্রী বলেন, ‘উনি আমাকে অস্ত্র দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। আমি বারবার ওনার কাছে মাফ চেয়েছি, তবুও রেহাই মেলেনি।’

পরে ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রী ওই ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে ট্রিপল নাইনে কল করেন। পুলিশ এরই মধ্যে ওই বাসার ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরাও জব্দ করেছে।

তুরাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক আবু সাঈদ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনুসন্ধান চলছে। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিরের নামে অভিযোগ এসেছে। আসামি শনাক্ত হলে আইনি ব্যবস্থা নেব। অপরাধ যে করবে, সে যেই হোক তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

এর আগে ২০২২ সালেও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল বড় মনিরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ ছিল বড় মনির ২০২২ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল টাঙ্গাইল সদর থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন ভুক্তভোগী। সে সময় ওই তরুণী অভিযোগ করেন, বড় মনির মূলত তার সম্পত্তির সমস্যা সমাধান করে দেবেন বলে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং বিভিন্ন রকমের ছবি তোলেন। ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এরপর সেই ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে বড় মনির আরও কয়েকবার তাকে ধর্ষণ করেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

পরে জন্ম নেওয়া ওই পুত্রসন্তানের ডিএনএ টেস্ট করা হলে দেখা যায়, শিশুটির সঙ্গে বড় মনিরের ডিএনএ মেলেনি। অর্থাৎ শিশুটির জৈবিক (বায়োলজিক্যাল) পিতা বড় মনির নন। এর ভিত্তিতে গত বছরের ৯ অক্টোবর ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর শুনানি শেষে বড় মনির জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। এরপর ওই বছরের ১৮ নভেম্বর বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের বোয়ালী এলাকা থেকে বড় মনির বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলার ওই বাদীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত