শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিরোধীদের বিভক্তি মাদুরোর ‘স্বস্তি’

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ১০:৫৮ পিএম

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ জুলাই। এতে আরও একবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, যিনি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের বিরুদ্ধে পূর্বসূরি হুগো চ্যাভেজের মতোই সোচ্চার। ‘সমাজতন্ত্রী’ নেতা বলে পরিচিত মাদুরো আরও এক মেয়াদে নির্বাচিত হতে শক্ত বিরোধী প্রার্থীকে সরিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার নিকোলাস মাদুরো তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হতে প্রার্থিতার ঘোষণা দেন। এবার নির্বাচিত হলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত তার ক্ষমতায় থাকার রাস্তা পাকা। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো বলছে, মাদুরোর জনপ্রিয়তা এতই কম যে ভোটারদের সঠিক মত প্রতিফলন হলে তার টিকে থাকা কার্যত ‘অসম্ভব’। এবারের নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছিল ডেমোক্রেটিক ইউনিটি প্ল্যাটফরমের (পিইউডি) নেত্রী মারিয়া কর্নিয়া মাচাদোর কথা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ কেড়ে নিয়েছে। মাচাদোকে মাদুরোর জন্য কঠোর এক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছিল গণমাধ্যমে। মাচাদোকে প্রার্থী করতে না পেরে একদম শেষ মুহূর্তে পিইউডির মিত্র ডেমোক্রেটিক ইউনিটি রাউন্ডটেবিলের (এমইউডি) নেতা সাবেক কূটনীতিক এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উরুটিয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ছাড়া আরও দুজন প্রার্থী নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ইলেকটোরাল কমিশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এনরিক মারকুয়েজ স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেছেন। জুলিয়া অঞ্চলের গভর্নর ম্যানুয়েল রোসালেস হচ্ছেন আরেক প্রার্থী।

ম্যানুয়েল রোসালেসকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। কারণ অনেক তাত্ত্বিক মনে করেন, বিরোধী নেতা হিসেবে তার ভূমিকা বরাবরই বিতর্কিত। কারণ ২০০৬ সালে সোশ্যালিস্ট ইউনিটি পার্ট (পিএসইউভি) প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট পদে হুগো চ্যাভেজ নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনি ছিলেন বিরোধী প্রার্থী। অভিযোগ হচ্ছে, চ্যাভেজের জয়ের রাস্তা তৈরি করতেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

তবে ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে রোসালেসের দল ‘আ নিউ টাইম’ বিরোধী রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। পিইউডি প্রার্থীদের প্রতি সমর্থনের কথা বলে আসছিলেন রোসালেস। কিন্তু নিবন্ধন তালিকা প্রকাশের পর এ নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। মাচাদো তাকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে তুলে ধরেন। রোসালেস ‘অনুগত বিরোধী’ নেতার তকমা পাচ্ছেন। সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, মাদুরো নিজের শাসনব্যবস্থাকে দীর্ঘায়িত করতে এখন বিরোধীশিবিরের এই বিভক্তি ও আস্থাহীনতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত