সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শবেকদর প্রাপ্তিতে ইতিকাফ শ্রেষ্ঠ আমল

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ১১:০২ পিএম

রমজানের শেষ দশ দিনের বিশেষ একটি আমল ইতিকাফ। রমজানের কল্যাণ ও বরকত লাভে ইতিকাফের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা এর মাধ্যমে লাইলাতুল কদর লাভ করার সম্ভাবনাও প্রবল। হজরত রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে মসজিদে ইতিকাফ করার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। এজন্য রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কেফায়া।

রাসুল (সা.)-এর ইতিকাফ : হজরত রাসুল (সা.) প্রতি বছর অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। রাসুল (সা.)-এর পর তার স্ত্রীরাও ইতিকাফ করতেন। -(সহিহ বুখারি) আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) প্রতি বছর দশ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু ইন্তেকালের বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন।’ -সহিহ বুখারি ২০৪৪

শবেকদর প্রাপ্তিতে ইতিকাফ : রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করতে বলেছেন। কদরের কল্যাণ ও বরকত লাভ করার ক্ষেত্রে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের গুরুত্ব অনেক।  ইতিকাফকারী অন্যান্য আমল করতে না পারলেও শুধু মসজিদে অবস্থান করাটাই একটা বড় আমল। ইতিকাফকারী যতক্ষণ মসজিদে থাকবে ততক্ষণ তার সওয়াব লেখা হতে থাকবে। আর অন্যান্য আমলের জন্য তো ভিন্ন সওয়াব আছেই। তাই শুধু মসজিদে অবস্থান করার মাধ্যমেই সে সহজে কদরের ফজিলত লাভ করতে পারছে।

নফল ইতিকাফ : সুন্নত ইতিকাফ সম্ভব না হলে এক বা দুই দিনের জন্য ইতিকাফ করা যায়। কর্মব্যস্ততা, হিম্মতের কমতি বা অন্য কোনো ওজর থাকতে পারে। সুন্নত ইতিকাফ করা যাচ্ছে না, তাই বলে যতটুকু সম্ভব হয় ততটুকুও করা যাবে না, বিষয়টি তেমন নয়। পূর্ণ দশ দিন সুন্নত ইতিকাফ করতে না পারলেও নফল হিসেবে যে যতটুকু পারে ততটুকুই আল্লাহর ঘরে অবস্থান করা ভালো। এতেও অনেক ফায়দা হবে। সেটাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে সারা দিনের কর্মব্যস্ততা থেকে ফারেগ হয়ে কমপক্ষে বেজোড় রাতগুলোতে নফল ইতিকাফের নিয়তে যদি মসজিদে অবস্থান করা হয় তবুও তাতে কদরের রহমত লাভের আশা করা যায়।

নারীদের ইতিকাফ : হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায় রাসুল (সা.)-এর স্ত্রীরাও ইতিকাফ করতেন। তাই যে সব বোনের ইতিকাফ করার সুযোগ রয়েছে তারাও ইতিকাফ করতে পারেন। স্বামী উপস্থিত থাকলে তার অনুমতি নিয়ে ইতিকাফ করুন। বাড়িতে নামাজের নির্দিষ্ট ঘর থাকলে সেখানে ইতিকাফ করতে পারেন। এছাড়া নামাজের জন্য নির্ধারিত কোনো জায়গা না থাকলে কোনো একটি জায়গা নির্দিষ্ট করা। এভাবে মা-বোনরাও ইতিকাফ ও কদরের ফজিলত লাভ করতে পারেন।

লাইলাতুল কদর : রমজানজুড়ে বিরাজ করে রহমত, বরকত ও ক্ষমার বারতা। তবে এ মাসে রয়েছে বিশেষ এক মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর। মহান আল্লাহ এ রাতের ব্যাপারে বলেন, ‘কদর রজনী সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সেই রজনীতে ফেরেশতারা ও রুহ অবতরণ করেন প্রত্যেক কাজে তাদের রবের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সেই রজনী সুবহে সাদিক উদিত হওয়া পর্যন্ত।’ -(সুরা কদর ৩-৫) তাই এ রাতের অন্বেষণে যেমন আগ্রহী হওয়া জরুরি তেমনি এ রাতে ইবাদত-বন্দেগি, নফল নামাজ, তেলাওয়াত, জিকির, তওবা-ইস্তিগফার, দোয়া-দরুদ ইত্যাদির প্রতি আরও যতœবান হওয়া কাম্য।

কোরআন নাজিলের রাত : রমজানের শবেকদরে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি কদরের রজনীতে কোরআন অবতীর্ণ করেছি।’ -(সুরা কদর ১) আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি এ (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি বরকতময় রজনীতে, বস্তুত আমি সতর্ককারী।’ -(সুরা দুখান ৩) এখানে বরকতময় রজনী বলতে শবেকদর বুঝানো হয়েছে।

গুনাহ মাফের রাত : কদরের রাতে মহান আল্লাহর অবারিত রহমত ও করুণা বর্ষিত হয়। হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমান ও ইহতিসাব তথা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং সওয়াব প্রাপ্তির প্রত্যাশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম (ইবাদত-বন্দেগি) করবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ -সহিহ বুখারি

কদরের বরকত থেকে বঞ্চিত যারা : মহান আল্লাহ ও তার রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পক্ষ থেকে এত বড় সুসংবাদ পাওয়ার পর এ রাতের ক্ষমা ও রহমত লাভের চেষ্টা না করা অনেক বড় বঞ্চনার বিষয়। আনাস (রা.) বলেন, রমজান মাস আগমন করলে রাসুল (স.) বলতেন, ‘মহিমান্বিত মাস উপস্থিত। এতে একটি রজনী রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত হলো সে যেন সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো। আর কেবল অভাগাই এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ

রাসুল (সা.)-এর শেষ দশকের আমল : হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী কদরের রাত সুনির্দিষ্ট নয়। তবে তা রমজানের শেষ দশকে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ হিসেবে রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইবাদতের মাত্রা ও পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন। আয়েশা (রা.) রাসুল (সা.)-এর শেষ দশকের আমলের বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘রাসুল (সা.) অন্য দিনগুলোর তুলনায় রমজানের শেষ দশকে বেশি ইবাদত করতেন।’ -(সহিহ মুসলিম) আয়েশা (রা.) আরও বলেন ‘রমজানের শেষ দশক শুরু হলে রাসুল (সা.) পূর্ণ রাত্রি জাগ্রত থাকতেন। পরিবারের সবাইকে জাগিয়ে দিতেন এবং নিজে কোমর বেঁধে ইবাদতে মগ্ন হতেন। -সহিহ বুখারি

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত