সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাপ-ছেলের ‘তুরস্ক সেনাবাহিনীর’ ফাঁদে হাজারো ভুক্তভোগী

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩১ এএম

তুরস্কের সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে, আবার কখনো মালয়েশিয়া, কানাডা ও বিভিন্ন দেশে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পাঠানোর নামে প্রায় দেড় হাজার মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন তারা।

এসব প্রতারণার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার কামরুল হাসান (৬৫) ও ফাহাদ হাসান সিয়াম (২৭)। সম্পর্কে তারা বাপ ও ছেলে।

গতকাল রবিবার দুপুরে ডিবির নিজ কার্যালয়ে এসব তথ্য জানান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। এর আগে শনিবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘সুনামগঞ্জ জেলার ভুক্তভোগী সহিদুল ইসলামের মাধ্যমে জানতে পারি, গ্রেপ্তারকৃতরা ২০ জনকে তুরস্কের সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। এ জন্য তাদের প্রতিজনকে ৭ লাখ টাকা করে দিতে হবে। প্রাথমিকভাবে ৩ লাখ করে দিতে হবে। তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর মেডিকেল করার কিছু দিন পর বাপ-ছেলে তাদের ২০ জনের ভুয়া জব অফার লেটার/অ্যাগ্রিমেন্ট লেটার দিতে শুরু করেন। পরে তুরস্কে যাওয়া বাতিল করে মালয়েশিয়া, সার্বিয়াসহ অন্যান্য দেশে পাঠাবেন বলে সহিদুলের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেন। এ পর্যন্ত তিনি একজনকেও বিদেশে পাঠাতে পারেননি।

ডিবি জানিয়েছে, কামরুল একসময় একটি এজেন্সিতে চাকরি করতেন। পরে সেই এজেন্সির মালিক মারা গেলে তিনি সেটির মালিক বলে পরিচয় দিতেন। সেই এজেন্সির পাশাপাশি চার-পাঁচটি প্রতিষ্ঠান খুলে বৈধ লাইসেন্সধারী বলে পরিচয় দিতেন তিনি। প্রকৃতপক্ষে তার কোনো লাইসেন্স ছিল না। ভুয়া লাইসেন্স নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন।

এ ছাড়া তিনি বিশ্বাসের জন্য বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস ভাড়া নিতেন। এই সব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি সরকারিভাবে তুরস্ক, কানাডা, মালয়েশিয়া, সার্বিয়াসহ অন্যান্য দেশে লোক পাঠানোর জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিতেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য টাকা ও পাসপোর্ট নেওয়ার পর কিছু কিছু পাসপোর্ট তিনি বিভিন্ন বৈধ এজেন্টদের কাছে জমা দেন ভিসা করার জন্য। সেই এজেন্সি থেকে কয়েকজনের ভিসা নিয়ে দেখাতেন আর বলতেন এই তো কয়েকজনের ভিসা হয়ে গেছে। এগুলো দেখিয়েই পরে অন্যদের কাছ থেকে আরও টাকা নিতেন তিনি। টাকা নেওয়ার পর সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন। এ ছাড়া কেউ টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্নভাবে হমকি-ধমকি দেন। একপর্যায়ে গোপনে তিনি তার অফিস পরিবর্তন করে ফেলতেন। তুরস্ক, কানাডা, সার্বিয়া, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে লোক পাঠানোর কথা বলে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন তিনি। তার নিজের পাসপোর্টে স্থায়ী ঠিকানা শরীয়তপুর উল্লেখ থাকলেও এনআইডিতে স্থায়ী ঠিকানা চাঁদপুর দেওয়া। দুই বছরে তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় ফ্ল্যাট, বাড়ি ও জমি কিনেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত