শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

'আফ্রিদির বিবৃতি' নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পাকিস্তান

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৮ পিএম

বাবর আজমকে আবারও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। মাত্র এক সিরিজেই থেমে গেছে শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্ব। বাবর দায়িত্ব নেওয়ার পর আফ্রিদির নামে একটি বিবৃতি দেয় পিসিবি।

পাকিস্তানি গণমাধ্যমে খবর বিবৃতিটি দেননি শাহিন আফ্রিদি। তার নাম দিয়ে নিজেদের মতো করে কথা বলেছে পিসিবি।

‘পাকিস্তান জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করতে পারাটা চূড়ান্ত সম্মানের ব্যাপার। সব সময়ই এ স্মৃতি ও সুযোগ লালন করে যাব। দলের খেলোয়াড় হিসেবে অধিনায়ক বাবর আজমকে সমর্থন জানানো আমাদের কর্তব্য। আমি তার নেতৃত্বে খেলেছি এবং তার প্রতি আমার শুধুই শ্রদ্ধা আছে। মাঠ এবং মাঠের বাইরে আমি তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। আমরা সবাই এক। আমাদের লক্ষ্যও একটাই, পাকিস্তানকে বিশ্বের সেরা দল বানানো।’

চমৎকার এই বিবৃতি নিয়ে স্তুতির জোয়ারে ভেসে যান আফ্রিদি। সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকে সামাজিক মাধ্যমে দারুণ প্রশংসা করেন তার।

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, আফ্রিদি আসলে এসবের কিছুই বলেননি! তার কাছ থেকে কিছু শুনে এই বিবৃতি দেওয়া হয়নি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের খবর, আফ্রিদির নামে পিসিবি এই বিবৃতি চালিয়ে দিয়েছে বিতর্ক থামাতে।

এতে বেজায় চটে যান আফ্রিদি। বোর্ডের বিবৃতিকে অস্বীকার করে পাল্টা একটি বিবৃতি তিনি প্রায় দিয়েই ফেলেছিলেন। বোর্ড তা জানতে পেরে তার সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে কথা বলে তাকে আপাতত থামিয়ে রাখে। এরপর বোর্ড চেয়ারম্যান সোমবার তার সঙ্গে কথা বলে আবার ব্যাখ্যা করবেন পরিস্থিতি।

ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর খবর, নেতৃত্বের বদলটা যেভাবে হয়েছে, তাতে এমনিতেই হতাশ ও বিরক্ত আফ্রিদি। অধিনায়কত্ব নেওয়ার সময় তিনি চেয়েছিলেন লম্বা সময়ের জন্য দায়িত্ব। সেই প্রতিশ্রুতিও তিনি পেয়েছিলেন। কিন্তু হলো উল্টো। এছাড়া যেভাবে এই বদলটা এসেছে, সেটিও ভালো লাগেনি ২৩ বছর বয়সী পেসারের। তাকে কোনো কিছু ব্যাখ্যা করা হয়নি বা পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি। এরপর এই বিবৃতি-বিতর্ক আফ্রিদিকে আরও খেপিয়ে তুলেছে।

নেতৃত্বের এবারের বদল পাকিস্তান দলের ভেতরের পরিবেশকেও ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে, এমন আলোচনা হচ্ছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে। দলের সবচেয়ে বড় দুই তারকার সম্পর্ক এমনিতে এতদিন দারুণ ছিল। বাবরের নেতৃত্বের খারাপ সময়ে প্রকাশ্যেই তার পাশে থেকেছেন আফ্রিদি। কিন্তু এবারের ঘটনায় তাদের সম্পর্কের টোনাপোড়েন তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।

গত নভেম্বরে যে পরিস্থিতিতে বাবরকে নেতৃত্ব ছাড়তে হয়েছিল, তাতে এখনই আবার তার নেতৃত্ব নেওয়াটাও বিস্মিত করেছে অনেককে। তবে পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, বেশ কিছু নিশ্চয়তা পেয়ে তবেই আবার দায়িত্বে আসতে রাজি হয়েছেন স্টাইলিশ এই ব্যাটসম্যান। জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভালো করতে না পারলেও তার নেতৃত্ব হুমকিতে পড়বে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তাকে। এছাড়া দল নির্বাচনেও আগের চেয়ে বেশি ভূমিকার নিশ্চয়তা পেয়েছেন তিনি।

এই মাসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে শুরু হবে বাবরের নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত