সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মা-শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫৭ এএম

গাইবান্ধায় সান্তাহার-লালমনিরহাট রেলপথের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন কলেজছাত্র জোবায়ের মিয়া (১৮)। গাইবান্ধা আদর্শ কলেজের সামনে গিয়ে দেখেন, এক গৃহবধূ কোলে শিশুসন্তান নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তখন গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে আসছিল সান্তাহারগামী একটি লোকাল ট্রেন। ওই গৃহবধূকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় তিনজনই রেলপথের পাশে ছিটকে পড়েন।

এ সময় দেড় বছর বয়সী শিশুসন্তান বেঁচে গেলেও গৃহবধূ ও কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে গাইবান্ধা আদর্শ কলেজসংলগ্ন রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতাবস্থায় তিনজনকেই প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর মধ্যে রংপুরে নেওয়ার পথে গৃহবধূ এবং কলেজছাত্র মারা যান। শিশুটি গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জোবায়ের গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি শহরের এসকেএস স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহত গৃহবধূর নাম রাজিয়া বেগম। তিনি গাইবান্ধা শহরের মাঝিপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী।

রেলওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, পারিবারিক কলহের জেরে রাজিয়া বেগম শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন রেললাইনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন জোবায়ের। তাদের ঝাঁপ দিতে দেখে রেললাইন থেকে ধাক্কা দেন। তখন সান্তাহারগামী লোকাল ট্রেনের ধাক্কায় তিনজনই রেললাইন থেকে ছিটকে পড়েন।

গাইবান্ধা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ফারুক হোসেন বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এটা আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা, এখনই বলা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় গাইবান্ধা জিআরপি থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত