সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিদেশে যেতে না পেরে দালালের বাড়িতে ৬ যুবকের অবস্থান

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:১৭ পিএম

জয়পুরহাটের কালাইয়ে এক দালালের খপ্পরে পড়ে তাজিকিস্তানে যাওয়া হলো না ছয় যুবকের। বিদেশে যেতে না পেরে বিমানবন্দর থেকে ফিরে অভিযুক্ত দালাল সুলতান মাহমুদ মাবুদের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন ওই যুবকরা।

দালালের বাড়িতে অবস্থানরত যুবকরা হলেন, কালাই উপজেলার পাঁচগ্রামের আতিকুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম, আব্দুল ওয়াদুদ, আলামিন তালুকদার, মোলামগাড়ীহাটের মেহেদী হাসান, জিন্দারপুর গ্রামের আবু তাহের।

জানা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ছয় যুবক কেউ জমি বন্ধক রেখে, কেউ স্থানীয় সমিতি বা এনজিও থেকে লোন নিয়ে, কেউ চড়া সুদে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে, কেউ গরু বিক্রি করে, কেউ পরিবারের গহনা বন্ধক রেখে ছয় যুবক সাড়ে পাঁচ লাখ করে টাকা দিয়েছিলেন একই উপজেলার জিন্দারপুর পূর্ব পাড়া গ্রামের স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী দালাল সুলতান মাহমুদ মাবুদের কাছে। তার কথা মতো গত মার্চ মাসের ২২ তারিখে তাদের ফ্লাইট ছিল। পরিবারের কাছে বিদায় নিয়ে ২ দিন আগে ২০ মার্চ দালাল মাবুদের সাথে তাজিকিস্তান দেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকায় যান তারা। ২২ মার্চে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুয়া ভিসার কারণে ছয় যুবককে আটকে দেওয়া হয়।

এরপর দিশেহারা ছয় যুবক পাওনাদারদের ঋণের বোঝা নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে না গিয়ে ওই দালালের বাড়িতে অবস্থান নেন ও ১০ দিনের বেশী সময় ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এ ঘটনায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে অভিযোগ করতে বলেন থানাতে।

এদিকে পলাতক দালাল মাবুদ ভুক্তভোগী পরিবারকে মোবাইলে নানারকম ভয়ভিতি ও হুমকি দিচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ঋণের পাওনাদারের ভয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন না তারা। টাকা ফেরত ও দালাল মাবুদের কঠোর শাস্তি চান এলাকাবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ওই ছয় যুবক এবং তাদের পরিবার।

ভুক্তভোগী আতিকুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম, আব্দুল ওয়াদুদ, আলামিন তালুকদার, মেহেদী হাসান, আবু তাহের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইতিপূর্বে বিভিন্ন দেশে দুইবার নিয়ে যাওয়ার জন্য সাড়ে ৫ লাখ করে টাকা নিয়েছিল। কিন্তু তখন গ্রামের দরবার শালিসে বলে তাজিকিস্তান নিয়ে যেতে চায়। তার কথা মত গত মার্চ মাসের ২২ তারিখ সকাল ৮টার দিকে ফ্লাইটের উদ্দেশ্যে ২০ তারিখে বাড়ি থেকে রওনা দেই। ২২ তারিখ সকাল ৭টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে কাগজপত্র চেকিংয়ের সময় ভিসা, ম্যান পাওয়ার ও অনন্য কাগজপত্র জাল শনাক্ত করে ইমিগ্রেশন এবং জাল জালিয়াতি করার অভিযোগে ৬ মাসের জেল দিতে চায়। তখন তাদের সাথে আকুতি মিনতি করে প্রাণে বেঁচে সেখান থেকে দালাল মাবুদসহ জয়পুরহাটের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বগুড়ায় এসে কৌশলে মাবুদ তার এক ভাগিনার মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।

অভিযুক্ত সুলতান মাহমুদ মাবুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ম্যান পাওয়ারের সমস্যায় তারা বিদেশ যেতে যেতে পারেনি। তাদের সাথে আপোসের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আজাহার আলী রাজা দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। প্রশাসনের উচিত তার বিরুদ্ধে এখনই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সে এলাকার অনেক লোকের সঙ্গে এরকম প্রতারণ করবে।

এ বিষয়ে কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওয়াসিম আল বারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সুলতান মাহমুদ মাবুদের ভাই সোবাহানের ৯৯৯—এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন লোক সেখানে অবস্থান করছেন। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সোবাহানের ভাই সুলতান মাহমুদ মাবুদের কাছে তিনবছর আগে বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা দেয় তারা। কিন্তু তাদের বিদেশ নিয়ে যেতে পারেনি। এই টাকার দাবিতে তারা মাবুদের বাড়িতে অবস্থান করে। তখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয় এবং ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু তারা অভিযোগ করেনি, তাদের বক্তব্য হচ্ছে তারা টাকা নিয়ে ওই বাড়ি থেকে বের হবেন। অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত