শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

স্বজনদের ঈদ আনন্দ বাড়াচ্ছে বিকাশ-এ পাঠানো প্রবাসীদের রেমিট্যান্স

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:২১ এএম

চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বাসিন্দা উম্মে হাবিবা। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ওমান প্রবাসী স্বামীর কাছ থেকে মাসের খরচ পান সরাসরি নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টে। ‘আগে মাসে মাসে টাকা পাঠাত ব্যাংকে। সেই টাকা ওঠাতে যাওয়া লাগত উপজেলা শহরে ব্যাংকের শাখায়। গত সাত-আট মাস ধরে স্বামী টাকা পাঠাচ্ছেন বিকাশ অ্যাকাউন্টে, তাই এখন আর অটো ভাড়া দিয়ে সময় নষ্ট করে ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয় না, বাড়ির পাশের বিকাশের প্রিয় এজেন্টের কাছ থেকেই ক্যাশআউট করে নেই। আবার পল্লী বিদ্যুতের বিলও দিই বিকাশে’ বলছিলেন হাবিবা।

দেশে থাকা প্রিয়জনদের কাছে বৈধপথে সহজে, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারায় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারায় প্রবাসীদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিকাশের রেমিট্যান্স সেবা। বিশেষ করে রমজান ও ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীরা দেশে আসতে না পারলেও স্বজনদের ঈদ আনন্দে যাতে কোনো কমতি না থাকে সেজন্য বেশি পরিমাণে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন, যা দিয়ে স্বজনরা ঈদের কেনাকাটা সারছেন অনায়াসে।

বিশ্বব্যাপী বিকাশের পার্টনার মানি ট্রান্সফার অর্গানাইজেশন (এমটিও) মাধ্যমে নিজেদের সুবিধামতো সময়ে মোবাইল ওয়ালেট বা এমটিওর এজেন্ট পয়েন্ট থেকে খুব সহজেই বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন ১১০টি দেশে বাস করা বাংলদেশিরা। আর প্রবাসীদের কষ্টার্জিত এ অর্থ দেশে আসছে ৯৫টির বেশি আন্তর্জাতিক এমটিও হয়ে দেশের ২৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে সেটেলমেন্টের মাধ্যমে।

পাশাপাশি রেমিট্যান্স এখন আরও কম খরচে ক্যাশআউটের সুযোগ নিতে পারছেন প্রবাসীর স্বজনরা। সারা দেশের ১৯টি ব্যাংকের প্রায় ২ হাজার ৭০০ এটিএম বুথ থেকে প্রতি হাজারে মাত্র ৭ টাকা খরচে রেমিট্যান্সের অর্থ ক্যাশআউট করতে পারছেন। প্রতি মাসে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত যত খুশি ততবার ক্যাশআউট করতে পারছেন তারা। ইউএসএসডি কোড *২৪৭# এবং বিকাশ অ্যাপ উভয় পদ্ধতিতে এটিএম ক্যাশআউটে এ সুবিধা পাবেন রেমিট্যান্স গ্রহীতারা।

এজেন্ট থেকে ক্যাশআউটও আরও সাশ্রয়ী হয়েছে। এখন মাসে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাজারে ১৪.৯০ টাকা খরচে দুটি প্রিয় এজেন্ট নম্বরে ক্যাশআউট করতে পারছেন তারা। সবসময়ের মতোই বিকাশের এ চার্জের মধ্যে ভ্যাটসহ সব খরচ অন্তর্ভুক্ত, গ্রাহককে ক্যাশআউটের জন্য বাড়তি আর কোনো খরচ করতে হচ্ছে না।

এদিকে প্রিয়জনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া প্রতি হাজারে ২৫ টাকা প্রণোদনাও মূল অর্থের সঙ্গে যোগ হয়ে যাচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। তা দিয়ে তারা ঈদের কেনাকাটা সারছেন অনায়াসে। পাশাপাশি বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির বিল পরিশোধ, টাকা পাঠানো, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সরকারি সেবার ফি পরিশোধ, জাকাত-ফিতরা দেওয়াসহ অসংখ্য সেবা নিতে পারছেন ঘরে বসেই।

এ ছাড়া দেশ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৩ লাখ ৩০ হাজার এজেন্ট পয়েন্ট থেকে প্রয়োজনমতো যেকোনো সময় ক্যাশআউট সুবিধাও গ্রহণ করতে পারছেন।

বিকাশের রেমিট্যান্স সেবা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহকে গতিশীল রাখতে সহায়তা করছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে। ২০২১ সালে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ প্রক্রিয়ায় বিকাশের মাধ্যমে দেশে থাকা প্রিয়জনের কাছে ২ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। আর ২০২৩ সালে বিকাশের মাধ্যমে আসা রেমিট্যান্স দাঁড়ায় ৬ হাজার ২৫২ কোটি টাকায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত