সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মারা গেলেন চার কিডনি গ্রহীতার তিনজনই

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩৮ এএম

দেশের প্রথম ‘ক্যাডাভেরিক’ বা ‘ব্রেন ডেথ’ রোগী সারাহ ইসলামের কিডনি গ্রহীতার শেষের জনও মারা গেছেন। শামীমা আক্তার (৩৪) নামে এই রোগীর গত বছরের ১৯ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিস্থাপনের ১ বছর ৪ মাসের মাথায় গত মঙ্গলবার রাতে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে সারাহ ইসলামের কিডনির অপর গ্রহীতা রহিমা আক্তারও মারা যান। তাদের পরে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় ‘ব্রেন ডেথ’ রোগী রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ৩৮ বছর বয়সী মাসুম আলমের দুটি কিডনি দুই রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। তাদের মধ্যে একজন ৪৪ বছর বয়সী জাকির গত ৪ ফেব্রুয়ারি কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে মারা যান। এই হাসপাতালেই তার দেহে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। অপর কিডনি গ্রহীতা রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী তাহমিনা ইয়াসমিন পপি বর্তমানে সুস্থ আছেন। বিএসএমএমইউতে তার দেহে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। এর ফলে বাংলাদেশে ক্যাডাভেরিক কিডনি প্রতিস্থাপন শুরুর ১ বছর ৪ মাসের মাথায় দুই ক্যাডাভেরিক রোগীর চার কিডনি গ্রহীতার মধ্যে তিনজনই মারা গেলেন।

এ অবস্থায় বাংলাদেশে ক্যাডাভেরিক কিডনি প্রতিস্থাপনের ভবিষ্যৎ কী? এমন এক প্রশ্নের জবাবে দুই দফার কিডনি প্রতিস্থাপনে বিএসএমএমইউ চিকিৎসক দলের প্রধান, ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, সারা বিশ্বেই কিডনি প্রতিস্থাপনের অবস্থা এমনই। ট্রান্সপ্ল্যান্টের পর হাই ডোজ ওষুধ দিয়ে রোগীর শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে কমিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে সবচেয়ে বেশি। এজন্য প্রথম এক বছর খুব সাবধানে থাকতে হয়। সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রটেকশন নিয়ে চলতে হয়। কারণ একবার যদি সংক্রমণ হয়ে যায়, সেটা কমানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। সংক্রমণ মারাত্মক রূপ নেয়।

এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আরও বলেন, আমরা অনেক কাউন্সেলিং করি। বলে দিই একটা বছর ঘরের মধ্যেই থাকবেন, লোকালয়ে যাবেন না। ওষুধ নিয়মিত খেতে হবে। ভালোভাবে থাকতে হবে। তারপরও রোগীরা বুঝতে চায় না। এ সময় সংক্রমণ হলে সাধারণ ওষুধে কাজ হয় না। ক্যাডাভার ছাড়াও সাধারণ কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট রোগীদের এ ধরনের সমস্যা হয়। এ জন্য প্রথম এক বছর খুবই সাবধানে থাকতে হবে। কারণ এই এক বছর অনেক ওষুধ খায়। এরপর সংক্রমণের আশঙ্কা আস্তে আস্তে কমতে থাকে।

শামীমার মৃত্যুর ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, শামীমা গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় মারা গেছেন। গত ছয় মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন। নিয়মিত ফলোআপ করেননি। ডায়াগনসিসে দেখা গেল তার ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ, যেটা ট্রান্সপ্ল্যান্ট রোগীদের ক্ষেত্রে হয়। তার হেপাটাইটিস-সি পজিটিভ হয়েছিল।

শামীমার পরিবার বলছিল, তার যে ডায়ালাইসিস প্রয়োজন, সেটা বিএসএমএমইউতে নেই। এ ব্যাপারে এই চিকিৎসক বলেন, যখন কোনো রোগীর রক্ত চাপ অনেক কমে যায়, তখন তাকে সাধারণ ডায়ালাইসিস দেওয়া যায় না। সিআরটি (কার্ডিয়াক রিসিনক্রোনাইজেশন থেরাপি) নামে বিশেষ ডায়ালাইসিস দিতে হয়। সে ধরনের মেশিন এখানে নেই। যেখানে সাধারণ ডায়ালাইসিসে লাগে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা, সেখানে সিআরটি সিঙ্গেল ডায়ালাইসিসের খরচ হয় ৭০-৮০ হাজার টাকা।

এদিকে গত ২৫ জানুয়ারি রাতে বিএসএমএমইউয়ের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী মো. মাসুম আলমকে ব্রেন ডেথ ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সেখানে তিনি চার মাস ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অভিভাবকরা তাকে ক্যাডাভার হিসেবে অঙ্গদানের সম্মতি দেন। সেদিনই রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিএসএমএমইউ ও কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে দুটি কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু হয়। এর মধ্যে বিএসএমএমইউতে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী তাহমিনা ইয়াসমিন পপির দেহে। তিনি এখন সুস্থ আছেন। এ ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের এখানে যার দেহে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে তার অবস্থা ভালো। তাকে ছুটি দেওয়া হয়েছে ও নিয়মিত ফলোআপ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ঢাকার কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় ৪৪ বছর বয়সী জাকির নামে এক ব্যক্তির দেহে। তিনি গত ৪ ফেব্রুয়ারি ওই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে মারা যান। এ ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে যাকে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল, তার রক্তে সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত