ত্রাণকর্মীদের গাড়িকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও হত্যা করছে ইসরায়েল, এমনটাই অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের (ডব্লিউসিকে) প্রতিষ্ঠাতা জোসে আন্দ্রেস।
গাজায় ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে একের পর এক গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তার সংস্থার সাত কর্মীকে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। খবর বিবিসির।
বুধবার (৩ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেন তিনি।
গত সোমবার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় ডব্লিউসিকের সাত কর্মী নিহত হন। তাঁদের ছয়জনই ছিলেন বিদেশি। এই ঘটনার পর এই অঞ্চলে ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি।
নিহতদের মধ্যে ডব্লিউসিকের অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, পোল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি কর্মীও ছিলেন।
আন্দ্রেস বলেন, ডব্লিউসিকের সদস্যরা ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেই ত্রাণ সরবরাহ কাজ পরিচালনা করছিলেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী ত্রাণকর্মীদের গতিবিধি জানত বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘একটা গাড়িবহর যেখানে ভালভাবেই বলা আছে যে এগুলো মানবিক ত্রাণের গাড়ি, যার ওপরে ছাদে একটা রঙিন লোগো স্পষ্টভাবেই বোঝা যায়। তাতে এটা খুব পরিষ্কার ছিল যে আমরা কারা এবং আমরা কি করি।‘
দাতব্য সংস্থার কর্মীদের ওপর হামলা ও সাত কর্মীকে হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং নিহত প্রত্যেক কর্মীর দেশের সরকারকে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন আন্দ্রেস।
এদিকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিদেশি ত্রাণকর্মীদের নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে এটাকে ‘অনিচ্ছাকৃত হামলা’ বলে দাবি করেছেন তিনি। বলেছেন, যুদ্ধকালে এমনটা ঘটতে পারে।
