হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০২:১১ এএম

বছরের সবচেয়ে ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ রাত লাইলাতুল কদর। আমাদের দেশে রাতটি শবেকদর নামে অধিক পরিচিত। রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর হতে পারে। তবে হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৬ রমজান দিবাগত রাতটি পবিত্র লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

মহিমান্বিত এই রাতকে কোরআনে কারিমে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। এই রাতে লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আকাশে মহাগ্রন্থ আল কোরআন অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এই কোরআন আমি লাইলাতুল কদরে নাজিল করেছি।’ এই রাতের তাৎপর্য বর্ণনা করে কোরআনে বলা হয়েছে ‘তুমি জানো, লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এই রাতে ফেরেশতারা ও রুহ (জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সব সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করেন।’ -(সুরা কদর)

অসংখ্য হাদিসে শবেকদরের ফজিলত ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ইমানের সঙ্গে সওয়াব লাভের আশায় ইবাদত করে তার পূর্ববর্তী গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ -(বুখারি) নবীজি পুরো রমজান, বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদরের অন্বেষায় ব্যাকুল হয়ে উঠতেন। পরিবার-পরিজন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও এই রাত তালাশ করতে বলতেন। প্রতি রমজানে শেষ ১০ দিন ইতেকাফ করতেন। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল লাইলাতুল কদর অন্বেষণ। হজরত আয়েশা (রা.) একবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি লাইলাতুল কদর পাই তখন কী করব? তিনি বললেন, তুমি এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়বে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়্যুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফুআন্নি।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করে দিতে ভালোবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।’ -(তিরমিজি)

লাইলাতুল কদর উম্মতে মুহাম্মদির বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আর কোনো নবীর উম্মতকে এ ধরনের ফজিলতপূর্ণ রাত বা দিন দান করা হয়নি। আগের যুগের উম্মতরা অনেক আয়ু পেতেন। সে জন্য তারা অনেক দিন ইবাদত করারও সুযোগ পেতেন। সে তুলনায় উম্মতে মুহাম্মদির আয়ু নিতান্তই কম। এ জন্য আল্লাহ তায়ালা তার বিশেষ দয়ায় মহানবী (সা.)-এর উম্মতকে মহিমান্বিত এই রাত দান করেছেন। মূলত শবেকদরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ অজানা রাখার পেছনে মহান আল্লাহর বিশেষ হেকমত বা কল্যাণ নিহিত রয়েছে। হাদিসের ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) এই রাত অনির্দিষ্ট রাখার কল্যাণের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, ‘মানুষ যেন এই রাতের মর্যাদা লাভের জন্য চেষ্টা সাধনা করে। অন্যথায় নির্দিষ্ট তারিখ জানা থাকলে মানুষ শুধু নির্দিষ্টভাবে সেই রাতে ইবাদত-বন্দেগি করত।’ -(ফাতহুল বারি)

যারা শবেকদর ইবাদত করে কাটাবেন, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। তবে এই রাতে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদত নেই। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, তাসবিহ-তাহলিল, দান-সদকা সবই এই রাতে করা যায়। আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে যেকোনো ইবাদত করলে অভাবনীয় প্রতিদান পাওয়া যাবে ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের অত্যন্ত ভালোবাসেন। তিনি চান প্রত্যেক বান্দা যেন পূত-পবিত্র হয়ে তার দরবারে হাজির হয়। বান্দাদের গুনাহ ও পাপমুক্ত করার জন্য লাইলাতুল কদর একটি বিশেষ উপলক্ষ। এটাকে যারা কাজে লাগাবে তারা সফল। আর যারা অবহেলা করবে, তারা বড়ই দুর্ভাগা। এ জন্য প্রত্যেকের উচিত ২৬ রমজান দিবাগত রাতসহ শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা।

লেখক : আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত