রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে পাঁচ যাত্রী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের দিন বাড়ি ফিরতে তারা লঞ্চ টার্মিনালে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে এক দম্পতি এবং তাদর চার বছরের একমাত্র সন্তান রয়েছে। তারা হলেন- মো. বেলাল (৩০), তার স্ত্রী মুক্তা (২৬) ও তাদের শিশুসন্তান মাইসা (৩)। সদরঘাট নৌ থানার উপ-পরিদর্শক লিয়াকত আলী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, মরদেহগুলো স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে রয়েছে।
সদরঘাটে দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যুর খবর শুনে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে এসেছেন মুক্তার ভগ্নিপতি জহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, বেলাল গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে সেখানে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়।
ঈদের দিন লঞ্চে করে বাড়ি যেতে বেলাল স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সদরঘাটে এসেছিলেন বলে জানান জহিরুল। তিনি বলেন, বেলালের বাবা–মা বেঁচে নেই। স্ত্রী–সন্তানসহ তাঁর মৃত্যুতে ওই পরিবারে আর কেউ রইল না।
নিহত অপর দুজন হলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের তরুন রবিউল (১৯) এবং পটুয়াখালীর রিপন হাওলাদার (৩৮)।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এমভি তাশরিফ-৪ ও এমভি পূবালী-১ নামক দুটি লঞ্চ দড়ি দিয়ে পন্টুনে বাঁধা ছিল। এ দুটি লঞ্চের মাঝখান দিয়ে ফারহান নামের আরেকটি লঞ্চ ঢুকানোর সময় এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে গেলে পাঁচ জন যাত্রী লঞ্চে উঠার সময় গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার পরপর নৌপুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঢাকা থেকে ভোলাগামী তাশরিফ-৪ লঞ্চের ধাক্কায় ৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। লঞ্চটি ঘাটে বেঁধে রাখা ছিল। হঠাৎ পাশের লঞ্চের ধাক্কা লাগলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সদরঘাটে লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে ৫ জনের মৃত্যু
ঈদের জামাতের স্থান নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩০
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেটকারে আগুন 