ব্যাংক ঋণের সুদহার বৃদ্ধি, টাকার প্রবাহ কমিয়ে আনাসহ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো বেড়ে গেছে মূল্যস্ফীতি। মার্চ মাস শেষে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশে, ফেব্রুয়ারিতেও যা ছিল ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। রোজার মাসে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে লাগাম ছাড়িয়েছিল। যার প্রভাব পড়েছে মাস শেষের মূল্যস্ফীতিতে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত মাসিক ভোক্তামূল্য সূচকে এ তথ্য জানা গেছে।
চলতি অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। যদিও দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশের মধ্যে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নীতি সুদ হার বাড়িয়ে চলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারপরও কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না মূল্যস্ফীতি।
মার্চে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮১ শতাংশের অর্থ হলো ২০২৩ সালের মার্চে যে পণ্য ১০০ টাকায় কিনতে হয়েছিল, এ বছরের মার্চে তা ১০৯ টাকা ৮১ পয়সায় কিনতে হয়েছে।
গত ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের আগমুহূর্তে দ্রব্যমূল্য সব মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় সবাইকে যুক্ত করাসহ ১১টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু নতুন সরকার গঠনের তিন মাস পরও দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারিভাবে পণ্যমূল্য বেঁধে দেওয়া হলেও তা মানছেন না বিক্রেতারা।
বিবিএসের তথ্য বলছে, মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
গত মাসে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। মার্চে এসব পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৯ দশমিক ৩৩।
বিবিএসের মার্চের তথ্য বলছে, গ্রামের তুলনায় শহরের মূল্যস্ফীতি বেশি। গ্রামে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬৮, যেখানে শহরের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শহরে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৮, গ্রামে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে তিন কারণে বাংলাদেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছিল। এ তিনটি কারণ হলো ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, বিদেশি মুদ্রার সংকটের কারণে আমদানি সংকোচন ও জ্বালানি সংকট বহাল থাকবে, যার কারণে বিদ্যুতের দাম আরও বাড়তে পারে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতির রাশ আরও টেনে ধরা দরকার বলেও সংস্থাটি অভিমত দিয়েছে।
বিশে^র বিভিন্ন দেশ দুই বছর আগে থেকেই সুদহার বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে এবং অধিকাংশ দেশই তাতে সফলতা পেয়েছে। তবে বাংলাদেশ দেরিতে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো সুফল পায়নি। বরং ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়তে থাকায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। নতুন ঋণের ক্ষেত্রে এপ্রিল মাসে ‘স্মার্ট’ (সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল) সুদহার হবে ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আগের মাস মার্চে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।
