শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রিজন সেলে হত্যা মামলার আসামির হাতে আরেক হত্যা মামলার আসামি খুন!

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৬ এএম

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে হত্যা মামলার এক আসামি আরেক আসামিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরেক আসামি। গত রবিবার ভোরে এ ঘটনায় হতাহতরা সবাই বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গতকাল সোমবার তিন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

নিহত মো. মোতাহার (৬০) বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার কাউনিয়া গ্রামের রফিজউদ্দিনের ছেলে। বরগুনার একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন তিনি। আহত অজিত ম-ল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তিনি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রাজারচর গ্রামের গৌরাঙ্গ ম-লের ছেলে। অজিত একটি চুরির মামলার আসামি।

অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম (২৫) পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের ফারুক সরদারের ছেলে। তিনি পটুয়াখালীর একটি হত্যা মামলার আসামি।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (অপারেশন) বিপ্লব মিস্ত্রি বলেন, গত রবিবার ভোরে হাসপাতালের নিচতলার প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন দুই আসামিকে স্যালাইনের স্টিলের স্ট্যান্ড দিয়ে বেধড়ক পেটান আসামি তরিকুল। পরে আহতদের চতুর্থ তলার সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১টায় একজনের মৃত্যু হয়। তরিকুল মানসিক রোগী বলে জানান তিনি।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, প্রিজন সেলের দায়িত্বে এক নায়েক ও দুই কনস্টেবল ছিলেন। মানসিক রোগীসহ তিনজন প্রিজন সেলের একটি কক্ষে ছিলেন। ভোরে আকস্মিকভাবে মানসিক রোগী অপর দুই আসামিকে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ট্যান্ড দিয়ে বেধড়কভাবে পেটাতে থাকেন। এতে মোতাহারের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। অজিত আঘাত পেলেও ততটা গুরুতর নয়। ঘটনার সময় সেলের তালার চাবি নিয়ে একজন বাইরে নাশতা করতে গিয়েছিলেন। তাই দায়িত্বরতরা দ্রুত প্রিজন সেলে ঢুকতে পারেননি।

হাসপাতাল প্রশাসন বলছে, মানসিক প্রতিবন্ধী ওই রোগীকে নিয়মানুযায়ী হাসপাতালের মানসিক ওয়ার্ডে রাখার কথা। কিন্তু সেখানে না রেখে সুস্থ মানুষের মধ্যে এভাবে রাখাটা আদৌ উচিত হয়নি কারা কর্তৃপক্ষের। সেখানে রাখলে এমনটা না-ও হতে পারত। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গতকাল তিন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রতœা রায়। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ওই কারারক্ষীরা হলেন সহকারী প্রধান কারারক্ষী সুমন চন্দ্র দে, কারারক্ষী কামরুল আহসান ও আব্দুর রব।

এদিকে প্রিজন সেলে মারামারিতে একজন নিহতের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল মারুফকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রেজওয়ানুল আলম ও কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী কমিশনার নাফিছুর রহমান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত