শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সান্তাহারের সজনে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়, লাভবান ব্যবসায়ীরা 

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪৪ পিএম

সজনের জন্য বিখ্যাত বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভা। গ্রীষ্মকালীন সবজি সজনে ডাটা উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন জেলায় রপ্তানি হয়। প্রতি মৌসুমে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মেট্রিকটন সজনে ডাটার ফলন হয় এই উপজেলায়। তবে এবার অনুকূল আবহাওয়া না থাকায় সজনের কাঙ্খিত ফলন হয়নি। এবার উপজেলায় ৫ হাজার মেট্রিকটন সজনে ফলন হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২৫ কোটি টাকা। 

তরকারি হিসেবে সজনের জুড়ি নাই, তাইতো এর কদর রয়েছে সর্বত্র। সান্তাহারের সজনে আবহাওয়ার কারণে অন্যান্য এলাকার থেকে স্বাদের হওয়াই সমগ্র দেশে এই সজনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উপজেলার বেশি ভাগ সজনের ফলন হয় সান্তাহার পৌর শহরে। পৌর শহরের বিভিন্ন রাস্তার পাশে ও রেলাইনের পাশ দিয়ে রয়েছে সারি সারি সজনে গাছ। রাস্তার পাশে থাকা এসব গাছে ব্যাপক সজনের ফলন হয়।

জানা গেছে, মৌসুম শুরুর দিকে প্রতি কেজি সজনে ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে হাট-বাজারে কমেছে সজনে দাম। বর্তমানে সজনে ডাটা পাইকারি বাজার ২৫ থেকে ৩০ টাকা ও খুচরা বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ।

সান্তাহার পৌর শহরের নামা পৌওতা এলাকার আরমান হোসেন পলাশ নামের এক সজনে চাষী বলেন, আমার ২০ টি সজনে গাছ আছে। প্রতিবছর এসব গাছের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার সজনে বিক্রি হয়। তবে আবহাওয়ার কারণে এবার সজনে ফলন কম হওয়ায় ২২ হাজার টাকার সজনে বিক্রি করেছি। 

অন্যান্য সবজির চেয়ে সজনে ডাটা পুষ্টিগুণে ভরা। চিকিৎসাবিদদের মতে, সজনে সবজিতে ক্যালসিয়াম, খনিজ লবণ, আয়রণসহ প্রোটিন ও শর্করা রয়েছে। এছাড়া ভিটামিন এ, বি,  সি সমৃদ্ধ সজনে ডাটা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। 

সজনে ডাটা প্রধানত দুই প্রজাতির। এর মধ্যে এক প্রজাতি বছরে তিন থেকে চার বার পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে এর নাম বলা হয় রাইখঞ্জন। অন্য প্রজাতির সজনে বছরের গ্রীষ্ম মৌসুমে একবারই পাওয়া যায়। সজনে চাষের জন্য বিশেষ কোন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হয় না। এর জন্য আলাদা কোন জমিও প্রয়োজন হয় না। যে কোন পতিত জমি, পুকুর পাড়, রাস্তার বা বাঁধের ধার, বাড়ির আঙ্গিনা এমনকি শহরে যে কোন ফাঁকা শুষ্ক জায়গায় সজনে গাছ লাগানো যায়। এর কোন বীজ বা চারাও প্রয়োজন হয় না। গাছের ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে রাখলেই সজনে গাছ জন্মায়। এর জন্য কোন সার বা পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। অবহেলা অযন্তে প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে উঠে সজনে গাছ। বড় ও মাঝারি ধরণের এক একটি সজনে গাছে ৬ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত সজনে হয়।
 
বিনা খরচে অধিক আয় পাওয়ায় অনেকেই বাণিজ্যিকভাবেও সজনে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে এই উপজেলার মাটি, পানি ও আবহাওয়া সজনে চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এই উপজেলায় সর্বত্রই প্রচুর পরিমাণে সজনে উৎপাদন হচ্ছে। 

আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিঠু চন্দ্র অধিকারী বলেন, আদমদীঘি উপজেলা সর্বত্র সজনে চাষে উপযোগী মাটি ও আবহাওয়া রয়েছে। প্রতিবছর এ উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার মেট্রিকটন সজনে উৎপাদন হয়। তবে এবার আবহাওয়ার কারণে আগের তুলনায় ফলন কিছুটা কম হয়েছে। এ বছর প্রায় ৫ হাজার মেট্রিকটন সজনের ফলন হয়েছে। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত