বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ইসরায়েলের মুখরক্ষার হামলা!

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২১ এএম

ইরানের ইসফাহান ও তাবরিজ শহরে ইসরায়েলের হামলার খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ খবর সামনে আসার পর থেকে এ নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। হামলার তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনুযায়ী ইসরায়েল উত্তেজনার অনুপাতে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারল কি না, তা এখন যাবতীয় আলোচনার কেন্দ্রে। ইরানের দিক থেকে হামলার কারণে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে; তবে তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। অন্যদিকে ইরানে হামলার পর এর জবাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানোর পথে যাবে না বলে জানিয়েছে। মোটের ওপর এখন যা পরিস্থিতি, তাতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলের ‘মুখরক্ষা’ ধরনের হামলার পর সম্ভবত সরাসরি সংঘাতের উত্তেজনার ইতি ঘটল। ওদিকে ইতালির কাপরি শহরে বিশে^র সাত পরাশক্তি নিয়ে গঠিত ‘জি৭’ জোটের বৈঠক থেকে উত্তেজনা পরিহারের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ইতালির কাপরি শহর জি৭ জোটের বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি গতকাল বলেন, তারা ইরানে হামলা চালানোর খবর ইসরায়েল তাদের দিয়েছে শেষ মুহূর্তে।

ইরানি কর্মকর্তাদের তরফ থেকে জানানো হয়, ইসরায়েল যে হামলা করেছে বলে দাবি করছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরানের পাল্টা আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের তুলে ধরা তথ্যের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়, ইরানের ইসফাহান শহরে পরমাণু কর্মসূচির কার্যক্রম চলে। সেখানে পরমাণু কার্যক্রমের পাশাপাশি অস্ত্র উৎপাদন কারখানা ও বিমান ঘাঁটি রয়েছে। ইসরায়েলে আক্রমণ চালানোর পর ইসফাহানের আকাশে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ইসফাহানের আকাশে তিনটি ড্রোন ধ্বংস করার তথ্য তুলে ধরা হয়। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করার পর ড্রোনগুলো ধ্বংস হয়। কর্মকর্তারা আকাশে ‘সন্দেহজনক বস্তু’ ধ্বংস করার কথা জানান। অন্যদিকে ইসরায়েলও এ নিয়ে তেমন কোনও তথ্য দেয়নি।

এদিকে এসব উত্তেজনার মধ্যে ফ্রান্সের ইরানি কনস্যুলেটে বিস্ফোরকসহ একজনকে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। পরে অবশ্য তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ইরানে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে ইতালিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনকে প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু তিনি এসংক্রান্ত প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যান এবং উত্তেজনা পরিহারে নিজেদের করণীয় নিয়ে কথা বলেন। এ ছাড়া হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ত না থাকার কথা জানান তিনি।

সিরিয়ার দামেস্কের ইরানি কনস্যুলেটে চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল হামলা চালিয়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সমর্থক গার্ড বাহিনী আইআরজিসির তিন শীর্ষ জেনারেলসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়। এরপর ইরান সেই হামলার জবাব দিতে ইসরায়েলের ভূখন্ডে গত শনিবার রাতে নজিরবিহীন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র চালায়। ইসরায়েল সেই হামলার জবাব দেবে কি না, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলছে উত্তেজনা। অবশেষে ইসরায়েলের হামলার খবর পাওয়া গেল। জানা গেছে, সিরিয়া ও ইরাকের বিভিন্ন জায়গায়ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা ফ্রাঙ্ক গার্ডনার বলেন, ‘যদি সত্যিই এটা ইসরায়েলের জবাবের শুরু এবং এটাই শেষ হয়ে থাকে, তাহলে বলতে হবে, হামলার আকার বা স্থান বিবেচনায় এই জবাব খুবই সামান্য।’

বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদি আজকের আক্রমণ তারই প্রতিফলন হয়, তাহলে আরেকটা প্রশ্ন দাঁড়ায়। এটা কি ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় থাকা সাবেক জেনারেলদের প্রত্যাশা অনুযায়ী যথেষ্ট শক্ত পদক্ষেপ হলো, ইসরায়েলের শত্রুদের নিরস্ত্র করতে যে পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছিলেন তারা? নেতানিয়াহুর অতি-জাতীয়তাবাদী শরিকরাও একটা প্রচন্ড প্রতিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। একজনের মন্তব্য, ইসরায়েলের জবাব ‘নৃশংস’ হওয়া উচিত।

তার মতে, এখন পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে সেটা দুটো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে ইসরায়েলের হামলা এখানেই শেষ কি না এবং ইরান পাল্টা হামলার সিদ্ধান্ত নেয় কি না। উল্লেখ্য, ইরান সর্বশেষ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে জানিয়েছে।

ইসফাহানের পরমাণু কেন্দ্রের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে আইআরজিসির কর্মকর্তারা। ইরানি সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার সিয়াভোস মিহানদোস্ত জানান, ইসফাহান পরমাণু কেন্দ্রের কোনো ক্ষতি হয়নি।

ইসরায়েলের হামলার খবর প্রকাশ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘অবিলম্বে প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই ইরানের।’

হামলার ধরন নিয়ে ইরানের কর্মকর্তাদের কথায় অন্যরকম তথ্য পাওয়া গেছে। একজন বিশ্লেষক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছিলেন, ‘ইসফাহানে বিমান প্রতিরক্ষা দিয়ে যে মিনি ড্রোনগুলোকে গুলি করা হয়েছে, সেগুলো ইরানের ভেতর থেকেই অনুপ্রবেশকারীরা উড়িয়েছিল।’

ইসফাহান নিউক্লিয়ার টেকনোলজি সেন্টারে একটি ইউরেনিয়াম কনভার্সন ফ্যাসিলিটি (ইউসিএফ) রয়েছে, যা ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড তৈরি করে। ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড নিউক্লিয়ার চুল্লির জ্বালানিতে ব্যবহার করা যায়। আবার এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত