‘আমার ইঞ্জিনিয়ার পোলা কই গেলো গো’—এমন চিৎকার দিয়ে বিলাপ খাচ্ছিলেন শিউলি রাণী সাহা। তার সামনে ছেলে শান্ত সাহার মৃতদেহ। গতকাল সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থী শান্ত। তার সঙ্গে তৌফিক নামের আরও এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকালে শান্তর মরদেহ এসে পৌঁছায় নরসিংদী শহরের সেবাসংঘ এলাকায়। শান্ত সাহা সেবাসংঘ এলাকার বাসিন্দা কাজল সাহা ও শিউলি রাণী সাহা দম্পতির ছেলে। তিন সন্তানের মধ্যে শান্ত ছিল ছোট।
ছেলে লাশের সামনে বসে বুক চাপরাচ্ছিলেন শিউলি রাণী। কিছুক্ষণ পর পর মূর্ছা যাচ্ছেন। আবার জ্ঞান ফিরলে আহাজারি করে বলছেন, ‘আমার সোনার চাক্কা আর নাই, আমিও আর বাঁচতে চাই না। আমার ইঞ্জিনিয়ার পুতে গেল কই? আমার পোলারে আইন্যা দেও তোমরা।’
মাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যেতে চাইলিলেন শান্ত সাহা। শিউলি রাণী বলেন, “পোলা ইঞ্জিনিয়ার হইয়া বিদেশে যাইব। আমারে কইছিল, ‘মাগো তোমারে বিদেশে নিয়া গিয়া চিকিৎসা করামু।’ এখন আমারে বিদেন নিয়ে যাইবো কেডা।” এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা শিউলি রাণী সাহাকে সান্ত্বনা দেন।
এদিকে বাবা কাজল সাহা আফসোস করছেন, ছেলের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে না পারার। কাজল জানান, শান্তর ইচ্ছা ছিল চট্টগ্রাম শহরে থেকে পড়ালেখা করার। হল ছাড়তে চেয়েছিলেন তিনি। শহরে থাকার জন্য অতিরিক্ত টাকা চেয়েছিলেন তার কাছে। সেই ইচ্ছা পূরণ করতে না পেরে আফসোস করছেন কাজল সাহা।
ছেলের লাশের সামনে বসে কাজল সাহা বলছেন, ‘আমি পারলাম না, আমার বাবার শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করতে।’
মেধাবী ছাত্র শান্তর মরদেহ নরসিংদী এসে পৌঁছলে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, সনাতন ধর্মীয় বিভিন্ন কমিউনিটি নেতাসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এসে ভিড় জমায়।
নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার অনিল ঘোষ বলেন, ‘শান্ত সাহার মতো একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুর বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তার মা-বাবাকে কি বলে শান্ত্বনা দেয়ার ভাষাও খুঁজে পাচ্ছি না। এমনভাবে যেন কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।’
চট্টগ্রাম থেকে শান্তর মৃতদেহ নিয়ে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে একজন শান্তর স্কুলজীবনের বন্ধু সৈকত শাহরিয়ার। তিনিও একই বিশ্বদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সৈকত শাহরিয়ার জানান, সম্প্রতি ছুটিতে বাড়িতে এসে মোটরসাইকেলটি চালানো শিখে ছিলেন শান্ত। ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পর সোমবার বিভাগে দুটি ক্লাস হয়। দুপুরে তার হলের এক বড় ভাইয়ের মোটরসাইকেলটি চেয়ে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সাথে ছিল একই বিভাগের দুই ছোট ভাই। ফেরার পথে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয় একটি বাস। এ ঘটনায় শান্তসহ আরও একজন নিহত হন, অপরজন চিকিৎসাধীন।
নিহত শান্তের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঈদ ও পয়লা বৈশাখের ছুটি বাড়িতে কাটিয়ে গত শনিবার রাতে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে নরসিংদী থেকে রওনা দেয়। রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গিয়ে ফোন করে পৌঁছানোর খবর জানান শান্ত। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শান্তর সহপাঠীরা তার বড় ভাই ব্যাংক কর্মকর্তা কৌশিক সাহার মোবাইলে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর জানান।
ইন্টারনেটের ধীর গতি নিয়ে দুঃসংবাদ, ঠিক হচ্ছে না দ্রুতই
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর ছুটি নয়, এবার নতুন দাবি