ওয়ালটনের তিন গুণ মুনাফা

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৩ এএম

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, কাঁচামালের উচ্চমূল্য, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নে ২০২২-২৩ হিসাববছরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে দেশীয় ইলেকট্রনিক জায়ান্ট কোম্পানি ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। তবে বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম কমে আসায় চলতি হিসাববছরে কোম্পানিটি উচ্চ মুনাফার ধারায় ফিরে এসেছে। চলতি ২০২৩-২৪ হিসাববছরে ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) ওয়ালটনের নিট মুনাফা বেড়েছে তিন গুণ। কোম্পানিটির অনিরিক্ষীত প্রান্তিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে। 

দেশে টিভি, ফ্রিজ, এসিসহ ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি পণ্যবাজারে সবচেয়ে বড় হিস্যাধারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। পর্যালোচনায় দেখা যায়, গুণগত মান অনুযায়ী দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় ২০২১-২২ হিসাববছর পর্যন্ত ওয়ালটনের পণ্য বিক্রি থেকে আয় বাড়তে দেখা গেছে। তবে ২০২২ সালের জুলাই থেকে দৃশ্যপটে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি ও ডলারসংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও একই হারে পণ্য বিক্রি করতে পারেনি কোম্পানিটি। এ ছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মৌলিক চাহিদা পূরণে সাধারণ মানুষের ব্যয় বাড়ায় টিভি, ফ্রিজ ও এসির চাহিদাও কমে যায়। এসব কারণেই ২০২২-২৩ হিসাববছরে ওয়ালটনের পণ্য বিক্রি কমে যায়। তবে চলতি হিসাববছরে পণ্য বিক্রি থেকে আয়ে তেমন প্রবৃদ্ধি না হলেও উৎপাদন ব্যয় ও বিনিময় হারের লোকসান কমে আসায় মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

ওয়ালটনের চলতি ২০২৩-২৪ হিসাববছরের ৯ মাসের অনিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময় পণ্য বিক্রি থেকে ওয়ালটনের আয় হয়েছে ৪ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। বিক্রি কিছুটা বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় আগের চেয়ে কমেছে। ফলে মোট আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। চলতি হিসাববছরের ৯ মাসে আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা।

প্রশাসনিক, বিক্রি ও বিতরণ ব্যয় সমন্বয়ের পর চলতি হিসাববছরের ৯ মাসে ওয়ালটনের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে কোম্পানিটির আর্থিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। নিট মুনাফা বাড়াতে এটিই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

আর্থিক খাতের ব্যয় কমাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বিনিময় হারের লোকসান। ২০২২-২৩ হিসাববছরের ৯ মাসে ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের কারণে বিনিময় হারে ওয়ালটনের লোকসান হয়েছিল ৩৯২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। বিনিময় হারে কিছুটা স্থিতিশীলতা

থাকায় চলতি হিসাববছরের একই সময়ে এই লোকসান নেমে এসেছে ৪১ কোটি ৬০ লাখ টাকায়। এ সময় সুদবাবদ ব্যয় ১১০ কোটি থেকে কমে ১০০ কোটি টাকায় নেমেছে। এর ফলে চলতি হিসাববছরের ৯ মাসে আর্থিক ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে ২৬৩ কোটি টাকায়, যা আগের হিসাববছরের একই সময়ে ছিল ৬০৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আর্থিক ব্যয় সমন্বয় শেষে কোম্পানির মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮০৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

চলতি হিসাববছরের ৯ মাসে মুনাফায় কর্মীর হিস্যা ও কর পরিশোধের পর ওয়ালটনের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭৬২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০৫ শতাংশ বেশি। ৯ মাসে নিট মুনাফায় যে উল্লম্ফন, তার বড় অংশই এসেছে তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) আয় থেকে। এই প্রান্তিকে ওয়ালটনের পণ্য বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ১ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। এ সময় আয় হয়েছে ৭৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৮ শতাংশ বেশি। প্রশাসনিক, বিক্রি ও বিতরণ ব্যয় সমন্বয়ের পর চলতি হিসাববছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ওয়ালটনের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৫৩৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪২ শতাংশ বেশি। এই প্রান্তিকে আর্থিক ব্যয়, মুনাফায় কর্মীর হিস্যা ও কর পরিশোধের পর ওয়ালটনের নিট মুনাফা হয়েছে ৪২২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৩৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত