চেয়ারম্যান প্রার্থী অপহরণ

সিংড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও সম্পাদককে অব্যাহতি

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪৯ এএম

নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন ওরফে পাশাকে মনোনয়নপত্র জমাদানে বাধা, অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে সিংড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো. হাসান ইমাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোহন আলীকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। গত মঙ্গলবার রাতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ ডলার ও সাধারণ সম্পাদক শফিউল আযম স্বপন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি এমএম ওয়াহিদুজ্জামান পিন্টুকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সোহেল রানা মুন্নুকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও জানানো হয়। অব্যাহতিপত্রে বলা হয়, ‘আগামী ৮ মে অনুষ্ঠিতব্য সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কেন্দ্র করে সংঘটিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র জমাদানে বাধা প্রদান, মারধর, অপহরণের ঘটনাসহ অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় করা মামলার আসামি সুমনের জবানবন্দি, নিউজপোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত ঘটনায় সিংড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো. হাসান ইমাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোহন আলীর সম্পৃক্ততা রয়েছে, যা বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী।’

গত মঙ্গলবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে নাটোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ স্বাক্ষরিত চিঠিতে অপহৃত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। দেলোয়ার হোসেন কলম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য এবং উপজেলার কলম ইউনিয়নের পার সাঐল এলাকার শের আলীর ছেলে।

গত ১৫ এপ্রিল বিকেলে নাটোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে মারধর করে একটি মাইক্রোবাসে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফুল হাবিব রুবেলের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। পরে মারধর করে সিংড়ার সাঐল গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে দেলোয়ার হোসেনকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। এরপর তাকে রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।

এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেনের বড় ভাই মজিবর রহমান বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করার পর তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফুল হাবিব রুবেলের নাম গণমাধ্যমে উঠে আসে।

সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফুল হাবিব রুবেল ও দেলোয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। কিন্তু অপহরণকাণ্ডে আলোচিত হওয়ার পর চাপের মুখে দলীয় সিদ্ধান্তে গত ২১ এপ্রিল নির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন লুৎফুল হাবিব রুবেল। এর ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন অপহরণ ও মারধরের শিকার দেলোয়ার হোসেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত