সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ঢাকার সাভারে তাপপ্রবাহের মধ্যেও চলছে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। গতকাল বুধবার সকালে সাভার উপজেলা কমপ্লেক্সের কাছের গে-া, ঘাসমহল, রাজাশন, শাহীবাগসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে তীব্র গরমের মধ্যে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলতে দেখা গেছে।
রাজমহল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রচণ্ড গরমে শিশু শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরকারের নিয়ন্ত্রণে কিংবা সরকারি টাকায় চলি না। আমরা নিজস্ব টাকায় চলি। অভিভাবকদের অনুরোধে আমরা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে পাঠদান করছি। আমাদের আশপাশে প্রায় ১০০ প্রতিষ্ঠান চালু আছে। তাদের বিরুদ্ধেও কিছু লেখেন।’
দক্ষিণ রাজাশন এলাকার জাবাল-ই-নূর মডেল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, চারতলা ভবনটির সামনের কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে পাশের একটি দোকানের শার্টার খুলে সেখান দিয়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা যাতায়াত করছে। সেখানে ঢুকতেই দেখা যায়, সন্তানকে পড়তে দিয়ে ছোট দোকানের মধ্যে শতাধিক অভিভাবক বসে এবং দাঁড়িয়ে আছেন। প্রতিটি ক্লাসে গাদাগাদি অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে ক্লাস করানোর বিষয়ে জানতে চাইলে জাবাল-ই-নূর মডেল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মোক্তার হোসেন বলেন, ‘আমরা সরকারি নির্দেশনার আওতায় পড়ি না। অভিভাবকদের অনুরোধে আমরা সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছি। কিন্তু সকাল ৯টায় গিয়ে দেখা যায় ওই প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি তলায় প্রচণ্ড রোদের মধ্যে জানালার পাশে বসে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা যায় পাশের বর্ণমালা আদর্শ স্কুল, ইউনিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ট্রাস্ট হাজী হাতেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়, সাভার পাইলট স্কুল ও গেন্ডা মডেল স্কুলসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
আজাদ হোসেন নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গরমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা বললেও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘সাংবাদিক, পুলিশ বা প্রশাসনের লোক আসলে সেটা আমরা বুঝব। আপনারা নিশ্চিন্তে ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠান, নিয়মিত ক্লাস হবে।’
প্রচণ্ড গরমে বোরকা পরিহিত এক নারী এক বছরের শিশুকে কোলে নিয়ে চার বছর বয়সী ছেলের কাঁধে ব্যাগ দিয়ে তাকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। স্কুল খোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান খোলা রাখলে আমাদের যতই কষ্ট হোক, বাচ্চাদের ক্লাসে নিয়ে আসতে হয়। আমাদের কথার শিক্ষকরা কোনো দাম দেন না। অন্য বাচ্চারা যখন ক্লাসে আসে তখন আমার বাচ্চা না এলে সে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়বে।
তাই বাধ্য হয়েই দুই ছেলেকে নিয়ে হেঁটে স্কুলে যাচ্ছি।’
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহুল চন্দ বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর লোক পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে নির্দেশনা অমান্যকারীদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে।’
