চা বাগান মালিকদের সুরক্ষা দিতে নির্ধারিত ফ্লোরপ্রাইস দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে নতুন মৌসুমের চা নিলাম। আগামী ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্রে প্রথম নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে ২০টি নিলামে বেঁধে দেওয়া ফ্লোরপ্রাইস অনুসরণ করা হবে। বাগান মালিক ও নিলাম-সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন নিলামে চায়ের দরপতন নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
চা বাগান ও নিলাম-সংশ্লিষ্টরা জানায়, ২০২৩ সালে দেশের চা বাগানগুলো উৎপাদনে রেকর্ড করলেও নিলামে ব্যাপক দরপতনের কারণে বাগান মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন চা বাগান মালিকরা। গত মাসে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় ওঠে। গত ১ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে চায়ের বাজারদর নির্ধারণের জন্য চা বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চায়ের উৎপাদন খরচ ও নিলাম মূল্যের সামঞ্জস্যতা আনার বিষয়ে বাগান মালিক ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ চা বোর্ড। বৈঠকে নিলামে চায়ের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য (অর্থ ও বাণিজ্য) মো. নুরুল্লাহ নূরীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি নিলামে তোলা চায়ের ছয়টি গ্রেড ভাগ করে ফ্লোরপ্রাইস নির্ধারণের সুপারিশ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চা বোর্ড সামনের নিলাম মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ২০টি নিলামে ফ্লোরপ্রাইস রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
চা বোর্ডের সদস্য (অর্থ ও বাণিজ্য) মো. নুরুল্লাহ নূরী এ প্রতিবেদককে জানান, লিকার রেটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে নিলামে তোলা চায়ের জন্য ছয়টি গ্রেড ভাগ করে সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো রেটিংয়ে চায়ের মান ৫ এর মধ্যে ৪ প্লাস বা ৪ হলে প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, ৩ প্লাস প্লাস গ্রেডের চা ২৭০ টাকা, ৩ প্লাস ও ৩ রেটিংয়ের চা ২৪৫ টাকা, ৩ মাইনাসের চা ২২৭ টাকা, ২ প্লাস হলে ২১০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২ রেটিংয়ের চায়ের দাম প্রতি কেজি ১৬০ টাকা।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক (বাণিজ্য) মদহুল কবির চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে জানান, ইতিমধ্যে চা বোর্ড থেকে নতুন মৌসুমের নিলাম সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম কেন্দ্রে প্রথম নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় নিলাম অনুষ্ঠিত হবে ৩০ এপ্রিল শ্রীমঙ্গলে। এ ছাড়া পঞ্চগড় কেন্দ্রে প্রথম নিলাম অনুষ্ঠিত হবে ৮ মে। আগামী নিলাম বর্ষে চট্টগ্রামে ৫০টি শ্রীমঙ্গলে ২৬টি ও পঞ্চগড়ে ২৪টি চা নিলামের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিলামে সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ায় চা উৎপাদনকারীদের লোকসান থেকে রক্ষা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশিয় চা সংসদ চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভাইস প্রেসিসেন্ট ও বেলগাঁও চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশের চা বাগানগুলোতে ২০২৩ সালে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন করলেও নিলামে ব্যাপক দরপতনের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে চায়ের কেজিপ্রতি ২৩০ টাকা উৎপাদন খরচ পড়েছে নিলামে সেই চা ৮০ থেকে ৯০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে। অথচ দেখা গেছে, খুচরা বাজারে চায়ের কোনো দাম কমেনি। তাই আমাদের দাবি ছিল, একটা ফ্লোরপ্রাইস নির্ধারণ করে দেওয়া যাতে বাগান মালিকরা লোকসানের শিকার না হন। তাই চা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চা নিলামে ফ্লোরপ্রাইস নির্ধারণের সরকারের এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
