প্রচন্ড তাপপ্রবাহের পর শুক্রবার রাতে বৃষ্টি নেমেছে সিলেটের বুকে, শীতল হয়েছে প্রকৃতি। প্রায় মাস আটেকের ব্যবধানে পুরনো ক্ষতও কি খানিকটা শুকিয়েছে, নাকি এখনো ছাইচাপা আগুন হয়েই জ্বলছে? সিলেটের ঐতিহাসিক আলী আমজাদের ঘড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ট্রফি উন্মোচনের ছবির জন্য হাসিমুখেই পোজ দিয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি এবং হারমানপ্রীত কৌর। এই হারমানপ্রীতই গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ-ভারত ওয়ানডে ম্যাচে আউট হওয়ার পর স্টাম্প ভাঙেন ব্যাট দিয়ে, পুরস্কার বিতরণের মঞ্চে করেন আম্পায়ারের সমালোচনা আর অতিথি তালিকায় ভারতীয় কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করায় প্রকাশ করেছিলেন উষ্মা। শাস্তিটাও ভারতীয় অধিনায়ক পেয়েছিলেন, দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। আজ থেকে ফের শুরু ভারতের বিপক্ষে আরেকটা সিরিজ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে ৫ খানা টি-টোয়েন্টি। রাতের বৃষ্টির মতো সময় কি শীতল করবে পরিবেশ, নাকি এ নিয়ে এখনো চাপা ক্ষোভ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মনে?
নিগার সুলতানা জ্যোতি অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘অতীতে অনেক কিছু হয়ে গেছে, যা হয়ে গেছে হয়ে গেছে। আমরা সেসব ধরে বসে নাই। জবাব দেওয়া বলতে ওরা বলেছে যে ওরা এবার আগের চেয়ে বেশি ফোকাসড, তার মানে ওরা আমাদের হালকাভাবে নিচ্ছে না। ভারত ভালো দল, ওরা যে দলটা নিয়ে এসেছে খুব সম্ভবত বিশ্বকাপেও এ দলটাই খেলবে। ওদের জন্য এবং আমাদের জন্য ভালো প্রস্তুতির সুযোগ। ভারতের মতো দলের বিপক্ষে ৫টি টি-টোয়েন্টি খেলা এবং যে কঠিন সময়টা পার করে আসছি (অস্ট্রেলিয়া সিরিজ), সেখান থেকে বের হয়ে আসতে গেলে অবশ্যই আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমাদের জন্য ভালো সুযোগ, সিলেটের মাঠ, এখানে খুব বড় কোনো অর্জন না থাকলেও অনেক সুন্দর স্মৃতি আছে। সেসব কাজে লাগিয়ে আগামীকালকের (আজকের) ম্যাচে ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টা থাকবে।’
ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীতও সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেছেন, অতীত ভুলে গেছেন তিনি, ‘সেসব ব্যাপার এখন আর নেই। নতুন একটা ভেন্যুতে খেলা, নতুন একটা সিরিজ সামনে। আমরা সেসবের জন্যই তৈরি হচ্ছি, আমরা সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে চাই।’ তার কণ্ঠে বাংলাদেশের প্রশংসাও আছে, আগের সফরেই তো বুঝে গেছেন বাংলাদেশ সামর্থ্যে খুব বেশি পিছিয়ে নেই।
গরম নিয়ে দুশ্চিন্তাও নেই দুই অধিনায়কের মধ্যে। জ্যোতি বলেছেন, বিকেলে খেলা হওয়ায় গরমটা কম লাগবে আর হারমানপ্রীত বললেন, এমন গরম হবে, সেটা আমাদের কাছে প্রত্যাশিতই। এই গরমে মাঠের গরম কতটা বাড়বে, সেটা অবশ্য নির্ভর করবে ক্রিকেটারদের ওপর!
